শান্তিগঞ্জে নৌকা বাইচে জনতার ঢল
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:১০:৫৮ অপরাহ্ন
মোটরসাইকেল জিতল হবিগঞ্জের ‘জাকিরের তরী’

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি: বাহারি নামের ১৮টি নৌকার অংশগ্রহণে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের খাই হাওরে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতা দেখতে হাজারো মানুষের ঢল নামে।
ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে ওঠে ‘স্বপ্নের তরী-১’, ‘জাকিরের তরী’, ‘রঙ্গিলা পবন’ ও ‘জল পবন’। চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ‘জাকিরের তরী’ প্রথম স্থান অর্জন করে। পুরস্কার হিসেবে তারা পায় একটি নতুন মোটরসাইকেল। দ্বিতীয় হয় ‘স্বপ্নের তরী-১’, তৃতীয় ‘রঙ্গিলা পবন’ এবং চতুর্থ হয় ‘জল পবন’। দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে একটি বড় ফ্রিজ, তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে মাঝারি ফ্রিজ এবং চতুর্থ পুরস্কার হিসেবে একটি এলইডি টিভি দেওয়া হয়।
পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের ধলমৈশা গ্রামের বাসিন্দা ও ইংল্যান্ডপ্রবাসী আবুল হোসেনের উদ্যোগে এ নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়। এতে নিজ গ্রাম, হাঁসকুড়ি ও ইউনিয়নবাসী সহযোগিতা করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুরের আগেই বিভিন্ন এলাকা থেকে গাড়ি ও নৌকায় করে দর্শনার্থীরা খাই হাওরে আসতে শুরু করেন। অনেকে বেড়িবাঁধে দাঁড়িয়ে এবং কেউ কেউ ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া করে নৌকা বাইচ উপভোগ করেন। দর্শনার্থীদের ভিড়ে খাই হাওরের বেড়িবাঁধ এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। বিভিন্ন নৌকায় ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকানও বসে।
দর্শনার্থীরা জানান, দুপুর ১টার দিকে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ছোট ছোট নৌকার ধারাবাহিক প্রতিযোগিতার পর কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে চারটি নৌকা চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয়। বৃষ্টির কারণে প্রায় এক ঘণ্টা প্রতিযোগিতা বন্ধ থাকলেও পরে আবার শুরু হয়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রতিযোগিতা শেষ হয়।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আনছার উদ্দিন, সদস্য ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল চাকমাসহ অনেকে।
খেলা দেখতে আসা দর্শনার্থী আবদুল হক বলেন, ‘অনেক দূর থেকে নৌকা বাইচ দেখতে এসেছি। ধলমৈশায় নৌকা বাইচ হবে শুনে আগে থেকেই আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এ ধরনের আয়োজন গ্রামীণ ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখে।’
আয়োজক আবুল হোসেন বলেন, ‘আমি সৌখিন প্রবাসী মানুষ। সব সময় এ ধরনের আয়োজন করার চেষ্টা করি। গ্রামের সবাই আমাকে সহযোগিতা করেছেন। আমি চাই নৌকা বাইচের ঐতিহ্য বেঁচে থাকুক। ব্যক্তি উদ্যোগে যারা এ ধরনের আয়োজন করছেন, তাদের সরকারি সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে একসময় নৌকা বাইচসহ গ্রামীণ ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে পারে।’





