সুষ্ঠু সড়ক নেটওয়ার্ক কি স্বপ্নই থেকে যাবে?
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ আগস্ট ২০২৫, ৭:৩১:০৫ অপরাহ্ন

দেশের সড়কে প্রাণহানি থামছেই না। গত এক মাসে (জুলাই) শুধু সিলেট বিভাগে ২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৬ জন। আহত ও পঙ্গু হয়েছেন ৬১ জন। এ নিয়ে গত ৭ মাসে সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২১৩ জন, আর আহত হয়েছেন ৫২৩ জন। এর আগের মাসে অর্থাৎ জুন মাসে ২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৪৮ জন আহত হন। সড়ক দুর্ঘটনার এই মর্মান্তিক ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের বাহাদুরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ শিক্ষার্থী সহ ৩ সিএনজি যাত্রী নিহত হন। আহত হন আরো ২ জন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুসারে, বাহাদুরপুর এলাকায় সুনামগঞ্জ থেকে সিলেটগামী একটি বাস এবং সুনামগঞ্জগামী একটি সিএনজি অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দ্রুতগামী বাসটি উল্টো সাইডে গিয়ে সিএনজি অটোরিকশাকে আঘাত করলেএই হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিক্ষার্থীদর একজন শান্তিগঞ্জ টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের এবং অপরজন সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের সদ্য ভর্তিকৃত ছাত্রী।
এছাড়া সপ্তাহখানেক আগে সুনামগঞ্জের ছাতকে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে পিকআপ ভ্যানের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে এক মোটর সাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়। একই দিন অর্থাৎ গত বুধবার নোয়াখালির বেগমগঞ্জে মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৭ জন নিহত হন। হতাহত সবাই তাদের স্বজন ও ওমানপ্রবাসী মোঃ বাহার উদ্দিনকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন।
জগানা গেছে, মাইক্রোবাসের চালক ঘুমিয়ে পড়ায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে যায়। কয়েকজন বের হতে পারলেও ৭ জন ভেতরে আটকা পড়ে মারা যান। এর আগে গাড়ি চালানোর সময় আরোহীরা মাইক্রোবাস চালকের ঝিমুনি লক্ষ্য করে ঘুমিয়ে নেয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু চালক এতে কর্ণপাত করেনি। ওমান প্রবাসী বাহার উদ্দিন স্বজন হারিয়ে বেঁচে আছেন। সম্প্রতি মিডিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিকার নিয়ে একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ সচেতনতার অভাব। অসতর্কতা ও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো। যান্ত্রিক ত্রুটিসম্পন্ন গাড়ি রাস্তায় নামানো। গাড়ির ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশী যাত্রী বহন করা। ভাঙ্গাচোরা ও অপ্রশস্ত রাস্তাঘাট। লাইসেন্সবিহীন ও অদক্ষ চালক। ফোনে কথা বলতে বলতে গাড়ি চালানো ট্রাফিক আইন মেনে না চলা। এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণটি এখানে উপস্থাপন করা হয়নি। সেটা হচ্ছে, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত বহু মেগা প্রকল্প ও বহু উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও অতীব গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য কোন বড়ো প্রকল্প হাতে নেয়া হয়নি। অথচ এশিয়ার বহু উন্নয়নশীল দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের ওমানের মতো পাহাড়পর্বত ও মরুভূমির দেশও এক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে। সুষ্ঠু সড়ক নেটওয়ার্ক থাকায় এসব দেশে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কম, যাতায়াতের ক্ষেত্রে সুযোগ সুবিধা বেশী। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ সড়ক নেটওয়ার্ক ও সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থার অভাব। এদেশে একটি মহাসড়কের একই লেইনে ভারী ও ছোট যানবাহন চলে। কিন্তু বহু স্তর ও লেইনবিশিষ্ট সড়ক ও সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থা থাকলে এই জগাখিচুড়ি হতো না যান চলাচলের ক্ষেত্রে। এদেশে একই সড়কে সিএনজি অটোরিকশার মতো হালকা যান ও ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান-বাসের মতো ভারী যান চলাচল করার ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। ট্রাক বাসের নীচে দুমড়ে মুচড়ে সিএনজি অটোরিকশার আরোহীদের প্রাণহানি হচ্ছে। এছাড়া এসব যানবাহনের আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা থেকেও অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে।
দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সড়ক ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার প্রতি অবহেলা কোনভাবেই শুভ হতে পারে না। প্রতি বছর যদি হাজারো সক্ষম ও প্রাণবন্ত মানুষ তথা জনশক্তি পীচ ঢালা পথে বিলীন হয়ে যায়, তবে দেশের উন্নয়ন হবে কীভাবে এমন প্রশ্ন যে কোন সচেতন ও বিবেকবান মানুষের মনে জাগা স্বাভাবিক। বিষয়টি নিয়ে আর অবহেলা ও নির্বিকার না থেকে সরকারের শীর্ষ মহলের অবিলম্বে এ ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা ও সুষ্ঠু পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরী। আমরা এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমূহের দৃষ্টি ও মনোযোগ আকর্ষণ করছি।





