আজ বহুল প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৩০:১৯ অপরাহ্ন
আজ শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘোষণার তারিখ ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বহুল আলোচিত ও প্রতীক্ষিত এই মামলার রায় সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করছেন। তিনি বলেন, আমরা আদালতের কাছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে আবেদন করেছি। আদালত সুবিবেচনা প্রয়োগ করবেন। তবে আমাদের পক্ষ থেকে প্রেয়ার হচ্ছে যে, এই অপরাধের দায়ে আসামীদের যেনো সর্বোচ্চ সাজা হয়। ট্রাইব্যুনালের সদস্যরা হচ্ছেন মোঃ গোলাম মর্তুজা মজুমদার, মোঃ শফিউল আলম মাহমুদ, মোঃ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী প্রমুখ বিচারপতিবৃন্দ।
লক্ষণীয় যে, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় প্রথম মামলাটি (মিসকেইস বা বিবিধ মামলা) হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। গত বছরের ১৭ অক্টোবর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম বিচার কাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেদিনই এ মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। প্রথম দিকে এ মামলায় শেখ হাসিনাই একমাত্র আসামী ছিলেন। চলতি বছরের ১৬ মার্চ এ মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে আসামী করার আবেদন করে প্রসিকিউশন বা রাষ্ট্রপক্ষ এবং ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতা বিরোধী অপরাধ মামলায় মোট পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। গত ১২ মে প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্য ২ হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দ তালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি ৪ হাজার ৫ পৃষ্ঠার এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ ২ হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার রয়েছে। এর ভিত্তিতে ১ জুন ট্রাইব্যুনালে হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান ও আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এখানে বলা আবশ্যক যে, চলতি বছরের ১ জুন শেখ হাসিনাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম মামলার ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগে আসামীদের বিরুদ্ধে ৫টি অভিযোগ তুলে ধরা হয়। বিচার শুরুর পর থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত ১০৩ দিনে এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। শুনানীতে জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত যোদ্ধা, প্রত্যক্ষদর্শী, চিকিৎসকসহ ৫৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। তাদের বক্তব্যে জুলাইয়ে ছাত্র-জনতাকে নৃশংসভাবে হত্যা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার গুম-খুনসহ নির্যাতনের লোমহর্ষক চিত্র ওঠে আসে।
রায়ের তারিখ ধার্য করার পর চীফ প্রসিকিউটর বলেন, আমরা অঙ্গীকার করেছিলাম যে যারাই বাংলাদেশে যতো শক্তিশালী হোক না কেনো, যদি কেউ অপরাধ করে, মানবতা বিরোধী অপরাধ করে, তাদের সঠিক পন্থায় বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তিনি আরো বলেন, এই জাতির যে বিচারের জন্য আকাংখা, যে তৃষ্ণা, সেটার প্রতি তারা সুবিচার করবেন এবং ভবিষ্যতের জন্য এই রায়টি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে- তেমন একটি রায় আমরা প্রত্যাশা করছি। বলা বাহুল্য চীফ প্রসিকিউটর তাজুল এই প্রত্যাশা দেশের মানুষেরও। জনগণ জুলাই-আগস্টের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড সহ বিগত দেড় দশকের নির্যাতন নিপীড়নের হোতাদের সুষ্ঠু ও কঠিন বিচার চায়, যাতে শহীদদের আত্মা শান্তি পায় এবং নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকাররা সুবিচার লাভে সন্তুষ্ট হয়। আমরাও আজকের রায় ঘোষণাকে নিরাপদ নির্বিঘ্ন ও সুষ্ঠু-সুশৃংখল হিসেবে দেখতে চাই।



