নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে প্রশ্ন, ভোটকেন্দ্রে ৫ সেনা চায় জামায়াত
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ নভেম্বর ২০২৫, ৯:১৪:৪১ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : ইসির সাথে সংলাপে নির্বাচনি আচরণবিধির কয়েকটি দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জামায়াতে ইসলামী। বিশেষ করে পোস্টার ব্যবহার, আচরণবিধি লঙ্ঘনের শাস্তি আরোপের এখতিয়ার এবং নির্বাচনী অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির সময়সীমা নির্ধারণ না থাকায় দলটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এছাড়া সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের লটারির মাধ্যমে বদলি চায় জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলছে, বদলির ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে নিরপেক্ষ ও আস্থা রাখার পদ্ধতি।
পোস্টার ব্যবহারে ‘দ্বৈত নীতি’ নিয়ে প্রশ্ন :
আচরণবিধির ৭-এর ‘ক’ উপধারায় ‘কোন প্রকার পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না’ উল্লেখ থাকার পরও ৭-এর ‘ঘ’ উপধারায় পোস্টারসহ অন্যান্য প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করায় ইসির দ্বৈত নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শিশির মনির। তিনি বলেন, ‘আগে বলছেন পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। আবার পোস্টার সরাতে পারবে না, এই কথা বলছেন কেন?’
শাস্তি আরোপের এখতিয়ার নিয়ে ধোঁয়াশা : আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য ছয় মাসের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান থাকলেও, কে এই শাস্তি আরোপ করবেন (হু উইল ইম্পোজ দা পানিশমেন্ট), সে বিষয়ে আচরণবিধিতে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা না থাকায় শিশির মনির ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আপনার এই আচরণবিধিতে তো নাই। বলতে হতো, কোর্টটা কে নির্ধারণ করবে? অভিযোগ নিষ্পত্তিতে সময়সীমা আবশ্যক : নির্বাচন-পূর্ব অনিয়মসংক্রান্ত অভিযোগ (আচরণবিধির ২৬) দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সময়সীমা নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এই আইনজীবী।
তিনি বলেন, আমি এখন গিয়ে দেখতে পেলাম আমার ইলেকশন হচ্ছে এক জায়গায় আমি আপনাকে কমপ্লেইন দিলাম। আপনাদের বাধ্যতা থাকা উচিত, আপনাদের সামনে তো কোনো স্টিক নাই। আমি কমপ্লেইন দিয়ে বসে থাকব, আপনারা ডিসপোজ করবেন না, আমার আর কিছু করার থাকবে না। সুতরাং ইউ টাইম লিমিট… এত ঘণ্টার মধ্যে এত সময়ের ভিতরে ডিসপোজ করবেন। তিনি শত শত অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সময়সীমা নির্ধারণ করা জরুরি বলেও মত দেন।’
নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ বাধ্যতামূলক করার দাবি : প্রতীক বরাদ্দের পর পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রেখে নির্বাচনী প্রচারণার উদ্দেশ্যে রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক একই মঞ্চে সকল প্রার্থীর উপস্থিতিতে ইশতেহার পাঠ ও আচরণবিধি প্রতিপালনের ঘোষণা প্রদানের ব্যবস্থা ‘করতে পারবেন’-এই বিধানকে ঐচ্ছিক না রেখে বাধ্যতামূলক করার দাবি জানান শিশির মনির।
তফসিলের পর একযোগে প্রশাসনে রদবদল চায় জামায়াত : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাম্প্রতিক জনপ্রশাসন ও পুলিশে রদবদল কোন জায়গা থেকে করা হচ্ছে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন কমিশনের এখতিয়ারে আসার পর সব ডিসি-এসসিকে বদলির দাবি জানিয়েছে দলটি।
প্রয়োজনে লটারির পরামর্শ দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা বলেছেন, তফসিল ঘোষণার পরই অতীতের মতো একদিনে সব ডিসি-এসপি বদল করতে হবে।
সাম্প্রতিককালে জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনে রদবদল প্রসঙ্গে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার বলেন, রদবদলের বিষয়টা একমাসের হয়নি, ২০ দিনও হয়নি, ডিসি সেখানে রদবদল হয়েছে। মনে হয়েছে যেন, কোনো ডিজাইন করে একটা উদ্দেশ্যে কোন জায়গা থেকে এটা হচ্ছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রশাসনে নিরপেক্ষতায় আস্থা রাখার উপায় হলো, লটারির মাধ্যমে ট্রান্সফার হওয়া। যার যেখানে তকদিরে আছে। প্রধান উপদেষ্টাকেও বলেছি, এরকম করলে প্রশ্ন থাকবে না। উনার বক্তব্যে বোঝা গেল, কোনোভাবে কোনো জায়গা থেকে শুরু করেছে। কেউ জানছেন কি, জানছেন না কিছুটা অস্পষ্ট কথা উনার থেকে বোঝা যায়।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ইসি আমাদের একমাত্র আস্থার জায়গা। তাই দৃষ্টি আকর্ষণ করলাম- একটা চেঞ্জ। আগেও দুয়েকটা নির্বাচনে হয়েছে- তফসিল ঘোষণার পর একদিনে, এক রাতে সব ডিসি-এসপি রদবদল ঘটেছে। জাতি আস্থা রেখেছে, কমপ্লেইন ছিল না। নির্বাচন কমিশন এরকম একটা সিদ্ধান্ত না নিলে, এখন যেটা হচ্ছে পরিকল্পিত, ইনটেনশনাল।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নির্বাচনী এলাকায় ৩টি লাউড স্পিকার নির্ধারণ করে দেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা দরকার। কারণ এত বড় এলাকায় মাত্র তিনটি লাউড স্পিকার দিয়ে কতটুকু কাভার করা সম্ভব? ভোটার লিস্টে ছাপা ছবিগুলো স্পষ্ট হতে হবে।





