চলতি বছর হচ্ছে না শাকসু!
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৩০:৪৪ অপরাহ্ন
নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার: চলতি বছরও কার্যকর হচ্ছে না বহুল প্রতিক্ষীত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ ও হল সংসদ। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দাবির মুখে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর করতে ১৭ ডিসেম্বরের পরিবর্তে আগামী বছরের ২০ জানুয়ারি শাকসুর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। শাকসু নিয়ে অদৃশ্য শক্তির এই খেলায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ কাটছে না। ফলে জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অথচ ছাত্রসংসদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চর্চার একমাত্র প্ল্যাটফর্ম।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, শাকসু নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা সরব হলেও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় বরাবরই হোঁচট খেয়েছে শাকসু। জুলাই গণঅভ্যূথানের পর শাকসুর দাবি জোরালো হয়ে উঠে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর শাকসু কার্যকরের স্বপ্নও দেখে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু নির্বাচন আয়োজনে যৌক্তিক সময় চেয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রকাশ্যে বিরোধিতায় বারবার হোঁচট খাচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন। ছাত্রদলের দাবির মুখে শাকসু নির্বাচন আয়োজন জটিল করে তুলেছে।
তথ্য মতে, শাকসু নিয়ে জটিল মারপ্যাচ থাকলেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত ১৪ নভেম্বর গভীর রাতে শাকসু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা দিতে বাধ্য হন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী। সকল বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে গত ১৬ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রফেসর ড. আবুল মুকিত মাহমুদ মোকাদ্দেছ নির্বাচনের তফসিলও প্রকাশ করেছিলেন। তফশিল অনুযায়ী দীর্ঘ ২৮ বছর পর আগামী ১৭ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১৭ ডিসেম্বর শীতকালীন ছুটি থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষ নির্বাচন এগিয়ে ১০ ডিসেম্বর করার দাবি জানিয়ে আসছিল। ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিপরীতমুখী অবস্থানে অবশেষে নির্বাচন পিছিয়েছে। তফশিল ঘোষণার এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফের সেই ‘অদৃশ্য’ শক্তির ইশারায় নির্বাচন পিছিয়ে গেল।
গতকাল রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আবদুল কাদির সই করা বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এ তারিখ ঘোষণা করা হয়। এতে বলা হয়, রোববার বেলা ১১টায় প্রশাসনিক ভবন-১ এর সভাকক্ষে বিভিন্ন ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনারদের আলোচনা সভা শুরু হয়। দীর্ঘ আলোচনার মধ্য দিয়ে বিকেল পৌনে ৩টায় সভা শেষ হয়।
আলোচনা সভায় ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী ছাত্রীসংস্থা, আপ বাংলাদেশ, ছাত্র মজলিস, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে সর্বসম্মতি প্রস্তাব ও সুপারিশ অনুযায়ী আগামী ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়। শাকসু নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম জানান, সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পুনঃতফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।
শাবিপ্রবি ছাত্রদল সভাপতি রাহাত জামান ইতোপূর্বে ১৭ ডিসেম্বরের নির্বাচনের বিরোধিতা করে জাতীয় নির্বাচনের পরে শাকসু আয়োজনের দাবিও তুলেছিলেন। সেই দাবি অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচনের আগে ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন নির্ধারণ করা হয়েছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। তারিখ পেছানোর মাঝে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র দেখছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। জাতীয় নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি অনুকূল নয় দাবি করে ফের নির্বাচন পেছানোর দাবি করতে পারে ছাত্রদল, এমন শঙ্কা সাধারণ শিক্ষার্থীদের।
এদিকে নির্বাচনের নতুন তারিখকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্রদল স্বাগত জানালেও ছাত্রশিবিরসহ বেশ কয়েকটি ছাত্র সংগঠন স্বাগত জানায়নি। জাতীয় নির্বাচনের আগে টালমাটাল পরিস্থিতিতে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করায় নির্বাচন হওয়া নিয়ে সন্দিহানও তারা।
ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি রাহাত জামান জালালাবাদকে বলেন, নির্বাচনের নতুন তারিখকে স্বাগত জানায় ছাত্রদল। ছাত্রদল মনে করে, নতুন তারিখে নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর। জাতীয় নির্বাচেনর আগে শাকসু নির্বাচন আয়োজন সম্ভব কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি মনে করি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে জাতীয় নির্বাচনের কোনো প্রভাব পড়বে না। তাই এটি আয়োজন সম্ভব।
শাবিপ্রবি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মাসুদ রানা তুহিন জালালাবাদকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচনের ঘোষিত তারিখ স্থগিত করে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। অনেক আগে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটা পক্ষের চাপে পড়ে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করে আসছে। আর জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের আগে টালমাটাল পরিস্থিতিতে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করায় নির্বাচন হওয়া নিয়ে আমরা সন্দিহান। তিনি আরও বলেন, প্রশাসন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা নিয়ে দোদুল্যমান বা ধুম্রজাল সৃষ্টি করার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্তমান এই পরিস্থিতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়ী।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের শাবিপ্রবি শাখার সেক্রেটারি আজাদ শিকদার জালালাবাদকে বলেন, অধিকাংশ ছাত্র সংগঠন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুস্পষ্ট মতামত থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন ১০ ডিসেম্বরের মধ্যেই শাকসু নির্বাচন আয়োজন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে আমরা স্বাভাবিকভাবেই আশঙ্কা করছি, তারা সামনে নতুন তারিখে নির্বাচন সফলভাবে আয়োজন করতে পারবে কি না তা অনিশ্চিত। এর পাশাপাশি জানুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই ক্যাম্পাস ও জাতীয় পরিসরে একটি রাজনৈতিক উত্তপ্ত পরিবেশ তৈরি হবে। এমন পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস শাবিপ্রবি শাখার সভাপতি জুনায়েদ আহমদ জালালাবাদকে বলেন, ডিসেম্বরের ১৭ তারিখে নির্বাচন আয়োজনের যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল, সেই তারিখে ২০% শিক্ষার্থীও ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকবে কি না, আমরা সে বিষয়ে সন্দিহান ছিলাম। এজন্য আমরা জানিয়েছিলাম যে, উক্ত তারিখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনও ১৭ ডিসেম্বরের আগে নির্বাচন আয়োজন করতে অপারগতা প্রকাশ করেছিল।





