ইসিতে তফসিলের তোড়জোড় : ১০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির সাক্ষাত, ১১ ডিসেম্বর ঘোষণা
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:১০:৩৭ অপরাহ্ন

জালালাবাদ রিপোর্ট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে আগামীকাল রোববার কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতে যাবে এ এম এম নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বাধীন কমিশন। আর ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করবে ইসি। ইসি সূত্রে জানা গেছে, ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের তফসিল ঘোষণা করার কথা রয়েছে। প্রথা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পরই তফসিল চূড়ান্ত করা হয়।
প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সাক্ষাতের রেওয়াজ রয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার আগে ১০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতে যাচ্ছে এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। এরপর বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। এদিন তফসিল ঘোষণা করবে ইসি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আরপিওর সবশেষ সংশোধনীও অনুমোদন হয়েছে। সব ধরনের প্রস্তুতি গুছিয়ে আনা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পর তফসিল ঘোষণা করা হবে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করা হবে। আর ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে।ইসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ৮, ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারিকে বিবেচনায় রেখে এগোচ্ছে কমিশন।
ইসি এর আগে জানিয়েছিল, ভোটের অন্তত ৬০ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘৬০ দিন বাধ্যতামূলক নয়। ৫৮ কিংবা ৬২ দিনও হতে পারে। মোটামুটি ৬০ দিনের কাছাকাছি হিসাব ধরা হয়েছে।
এদিকে, এ নির্বাচন ঘিরে ইসির যেমন কর্মতৎপরতা রয়েছে, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলো সক্রিয়। বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ অনেক দল তফসিল ঘোষণার আগেই তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিয়েছে। ওইসব প্রার্থীরা নিজ এলাকায় চষে বেড়াচ্ছেন। তাদের ঘিরে তৈরি হয়েছে ভোটের আমেজ। এছাড়াও নতুন নতুন রাজনৈতিক জোট গঠন হচ্ছে। তবে কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না, তা মোটামুটি নিশ্চিত বলা যায়। পোস্টাল ব্যালটেও দলটির প্রতীক থাকছে না বলে জানা গেছে।
ভোটের সময় ১ ঘণ্টা বাড়ানোর চিন্তা :
একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোট প্রদানে সময় বেশি প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে ভোটগ্রহণের সময় ১ ঘণ্টা বাড়ানোর চিন্তা করছে কমিশন। সাধারণত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয়। তবে এবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, এ বিষয় কমিশন সভায় চূড়ান্ত হবে। আগামীকাল রোববার কমিশন সভা হবে।’ ওই সভাতেই তফসিলের তারিখের বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি।
সময় ব্যবস্থাপনা নিয়ে চ্যালেঞ্জ :
এবার সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই সঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। একজন ভোটারকে দুটি করে ভোট দিতে হবে। এতে ভোট দিতে সময় বেশি লাগবে। এ জন্য ভোটকেন্দ্র বা ভোটকক্ষ বাড়াতে হবে কি না, তা বুঝতে গত শনিবার রাজধানীর একটি ভোটকেন্দ্রে মক ভোটিংয়ের আয়োজন করেছিল ইসি। ওই মক ভোটের প্রাথমিক তথ্য পর্যালোচনায় ইসি বলেছে, প্রতিটি ভোটকক্ষে একটির জায়গায় দুটি করে গোপন কক্ষ (যেখানে গিয়ে ভোটার ব্যালট পেপারে সিল দেন) স্থাপন করা হলে ভোটকেন্দ্র বাড়াতে হবে না। গোপন কক্ষ বাড়ানো এবং ভোট গ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ইসি। আগামীকাল রোববার এটি চূড়ান্ত করা হবে।





