ওসমানীনগরে যৌথবাহিনীর আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার নিয়ে প্রশ্ন!
প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:০৬:৪৪ অপরাহ্ন

ওসমানীনগর প্রতিনিধি: ওসমানীনগরে সেনাবাহিনীর অভিযানে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, অপরাধমূলক কর্মকান্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভোরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ দল অভিযান চালিয়ে উমরপুর ইউনিয়নের সিকান্দারপুর গ্রামের মো. আফিকুর রহমানের বাড়ি থেকে এসব অস্ত্র উদ্ধার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের পশ্চিম সিকন্দারপুর গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে মো. মুজিবুর রহমান, একই গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে সাঈদ আহমদ এবং তাজপুর ইউনিয়নের ভাড়েরা গ্রামের মো. ফারুক আহমদের ছেলে নাইমুর রহমান, জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউরা গ্রামের মৃত ইউসুফ উল্লাহর ছেলে গিয়াস উদ্দিন ও নবীগঞ্জ থানার রিফাতপুর গ্রামের মৃত গেদা মিয়ার ছেলে মো. হাবু মিয়া।
শুক্রবার ভোর রাতে ৩৪ বীর ওসমানীনগর আর্মি ক্যাম্পের বিএ লেফটেন্যান্ট মো. তানজিলের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর দুটি টহল দল এবং ওসমানীনগর থানার পুলিশের একটি টহল দল অভিযান চালিয়ে আফিক আহমদের বসতঘর থেকে পূর্বপার্শ্বের প্রায় দেড়শ ফুট দূরে খড়েরঘর থেকে ২টি একনলা বন্দুক, ১০ রাউন্ড গুলি, ২টি ওয়াকিটকি সেট, ১টি বাইনোকুলার, ১টি পাওয়ার ব্যাংক, ১টি এনালগ মাল্টিমিটার, ১টি হেড ল্যাম্প, ১টি ইলেকট্রিক শক টর্চ, ১টি অ্যাকশন ক্যামেরা, ১২টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, ৩টি মেমোরি কার্ড ও ১টি আয়রন কাটার উদ্ধার করে। সকালে উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গুলি ও অন্যান্য আলামতসহ গ্রেফতার ৫ জনকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ওসমানীনগর থানায় হস্তান্তর করা হলে থানায় মামলা দায়েরপূর্বক তাদেরকে বিকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এদিকে আটক মুজিবুর রহমানের মা খালেদা বেগম বলেন, আমার স্বামী আব্দুল গফুর উমরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন। গ্রামের একটি পক্ষের সাথে আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকে আমাদের বিরোধ রয়েছে। গতকাল ভোর রাতে সেনাবাহিনীর লোকজন ঘর থেকে আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে যায়। এখন শুনছি অস্ত্র মামলায় তাদের চালান করেছে। তারাতো আমার বাড়িতে থাকতে কোন অস্ত্র দেখায়নি।
এদিকে বাড়ীর মালিক আফিকুর রহমানের ছোট ভাই শাহিনুর রহমান বলেন, আমাদের বাড়ি ঘর সিসি ক্যামেরার আওতাভূক্ত। ঘর থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা আমাদের লোকজনকে আটক করে আশপাশের বাড়ির লোকজনকে ডেকে এনে ওয়াকিব করার সময় কোন অস্ত্র দেখায়নি। কিন্তু মুখে বলছে তারা অস্ত্র উদ্ধার করছে। গ্রামের একটি পক্ষের সাথে আমাদের বিরোধ আছে। এ বিরোধের কারণে পরিকল্পিতভাবে আমার চাচাতো ভাই, আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসা দুই ভাগনা ও কাজের লোকদের গ্রেফতার করানো হয়েছে।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুরশেদুল আলম ভূঁইয়া বলেন, যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র ও সন্দেহভাজনদের গ্রেফতারের পর তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। তাদেরকে কোর্টে চালান করা হয়েছে।
৩৪ বীর ওসমানীনগর আর্মি ক্যাম্পের বিএ লেফটেন্যান্ট মো. তানজিলের মোবাইলে বার বার কল করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। কল রিসিভ না করলে আর্মি ক্যাম্পের অধ:স্তন এক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, স্যার ক্যান্টনমেন্টে আছেন। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আমাদের ক্যাম্পের কেউ কোন কথা বলবে না।





