সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৪৫:২২ অপরাহ্ন
সর্বনিম্ন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ৬০ হাজার, জাতীয় স্কেলে বেতন পাবেন ইমাম-মুয়াজ্জিনও

জালালাবাদ রিপোর্ট : নতুন বেতনকাঠামোয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ। এর ফলে সর্বনিম্ন অর্থাৎ ২০তম ধাপে বেতন ২০ হাজার টাকা আর সর্বোচ্চ প্রথম ধাপে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার সুপারিশ করা হচ্ছে। ধাপ শেষ পর্যন্ত ২০টি থাকছে।
সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২১ সদস্যের বেতন কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। কমিশন বুধবার বিকেল পাঁচটায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন তুলে ধরবে। বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সরকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ঠিক করে।
জানা গেছে, প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে অনলাইনে জরিপের মাধ্যমে ২ লাখ ৩৬ হাজার অংশগ্রহণকারী মতামত দিয়েছেন। মূল্যস্ফীতি, জীবনমানসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের মতামত বিবেচনায় নিয়েছে বেতন কমিশন।
চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করছে। এটি পুরো মাত্রায় কার্যকর হবে ২০২৬ু২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে।
সূত্রগুলো জানায়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হচ্ছে। এত দিন ১১তম থেকে ২০তম ধাপের কর্মচারীদের জন্য যাতায়াতের ভাতা ছিল। এ যাতায়াতের ভাতা নতুন বেতন কমিশন ১০ম ধাপ থেকে ২০তম পর্যন্ত দেওয়ার সুপারিশ করছে।
কর্মরত সরকারি কর্মকর্তাুকর্মচারীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের পেনশনের হারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ছে। মাসে ২০ হাজার টাকার কম পান, এমন পেনশনভোগীদের পেনশন বাড়ছে ১০০ শতাংশের মতো। যাঁরা মাসে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার পেনশন পান, তাঁদের বাড়ছে ৭৫ শতাংশ। আর যাঁরা মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান, তাঁদের বাড়ছে ৫৫ শতাংশ।
৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনধারীদের চিকিৎসার ভাতা ১০ হাজার টাকা দেওয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে। এমনিতে বয়সভেদে আট হাজার টাকা চিকিৎসার ভাতা। ৫৫ বছরের কম বয়সীদের চিকিৎসার ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে পাঁচ হাজার টাকা।
প্রথম থেকে দশম ধাপ পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের বাড়িভাড়া তুলনামূলক কম হারে দেওয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে। ১১তম থেকে ২০তম ধাপে বাড়িভাড়ার হার তুলনামূলক বেশি থাকবে।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রতিবেদন দাখিলের পর সামরিক ও বিচার বিভাগের জন্য আলাদা বেতন কমিশন চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন ও ছুটি নির্ধারণ :
মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য জনবলের বেতন ও ছুটি নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। সোমবার ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।
বুধবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই নীতিমালা প্রণয়নে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি কাজ করেছে। এটি চূড়ান্ত করার আগে দেশের প্রখ্যাত আলেম-ওলামা ও ইমাম-খতিবদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক মতবিনিময় সভা করেছে এই কমিটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই নীতিমালায় দেশের মসজিদগুলোতে খতিব ছাড়া অন্যান্য জনবলের গ্রেডভিত্তিক বেতনকাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। খতিবের বেতন নির্ধারিত হবে চুক্তিপত্রের শর্তানুসারে। তবে, আর্থিকভাবে অসচ্ছল এবং পাঞ্জেগানা মসজিদের ক্ষেত্রে সামর্থ্য অনুযায়ী বেতন-ভাতাদি নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, সিনিয়র পেশ ইমামকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ৫ম গ্রেড, পেশ ইমামকে ৬ষ্ঠ এবং ইমামকে ৯ম গ্রেডে বেতন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রধান মুয়াজ্জিনকে ১০ম, মুয়াজ্জিনকে ১১তম, প্রধান খাদেমকে ১৫তম ও খাদেমকে ১৬তম গ্রেডে বেতন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এই নীতিমালায় মসজিদে কর্মরত জনবলের প্রয়োজন বিবেচনায় সামর্থ্য অনুযায়ী সপরিবারে আবাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাদের ভবিষ্যৎ কল্যাণের স্বার্থে মাসিক সঞ্চয়ের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া চাকরি শেষে এককালীন সম্মাননা প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারণ হলো ছুটিও :
মসজিদে কর্মরত ব্যক্তিদের ছুটিও সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এই নীতিমালায়। এতে বলা হয়েছে, মসজিদে কর্মরত ব্যক্তিরা কমিটির অনুমোদনক্রমে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ চার দিন সাপ্তাহিক ছুটি ভোগ করতে পারবেন। এ ছাড়া পঞ্জিকাবর্ষে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি ও প্রতি ১২ দিনে এক দিন অর্জিত ছুটির বিধান রাখা হয়েছে।





