জালালাবাদে ক্ল-লেস হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৩
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৩০:৫৩ অপরাহ্ন
♦ নেপথ্যে মা-মেয়ের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক
স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটের জালালাবাদ থানাধিন এলাকায় প্রবাসী যুবকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়েরকৃত ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। এঘটনায় এক কিশোরসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) নগরীর শাহপরান থানাধীন সোনারপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার রাতে সিলেট মেট্রপলিটন পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জালালাবাদ থানাধিন বড়পৌদ এলাকার মহরম আলীর ছেলে আব্দুল মতিন (৪৫), কোম্পানীগঞ্জের দলইরগাঁও গ্রামের ইসমাইল আলীর স্ত্রী খালেদা বেগম (৩২) ও ঘটনায় জড়িত ১৬ বছরের কিশোর। আব্দুল মতিন ও খালেদা বেগম সম্পর্কে ভাই-বোন হোন।
পুলিশ জানায়, গত ২৯ জানুয়ারি দুপুর দেড়টার দিকে জালালাবাদ থানাধীন ২নম্বর হাটখোলা ইউনিয়নের উমাইরগাঁও এলাকায় বাদেশ্বর নদীর উত্তর পাড়ে কুড়াইল হাওড়ের ঝোপঝাড় থেকে আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতনামা পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক) ছবি ছড়িয়ে পড়লে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়। নিহত ওই ব্যক্তির নাম শোয়েবুর রহমান ওরফে শিহাব ওরফে রাজ (৩০)। তিনি এয়ারপোর্ট থানাধীন বড়শালা এলাকার বাসিন্দা আমীর আলীর ছেলে।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সয়াইবুর রহমানের অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার জালালাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এর প্রেক্ষিতে মোবাইল ফোনের কললিস্ট যাছাই, তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সোনারপাড়া এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত কিশোর ও নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলেও জানায় পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে নিহত শোয়েবুর রহমান খালেদা বেগমের বাসায় তার সন্তানদের আরবি গৃহশিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নিহত ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকার বেশি অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তে আরও উঠে আসে, বিদেশে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বাদেশ্বর নদীর পাশের কুড়াইল হাওড়ে বেতের ঝোপে শোয়েবুর রহমানকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ আংশিকভাবে বিবস্ত্র করে বস্তা দিয়ে ঢেকে রেখে আসামিরা পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে এসএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। আসামিদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।





