তদন্ত ছাড়াই গভীর রাতে গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুজনের প্রশ্ন
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৭:৩৮ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলার পর নির্বাচন কমিশন কেন তদন্ত ছাড়াই ‘তড়িঘড়ি’ করে গভীর রাতে গেজেট প্রকাশ করল, সেই প্রশ্ন তুলেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন।
এ সংস্থার সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “নির্বাচনের সময় কারচুপি কিংবা নির্বাচন ফেয়ার হয়েছে কিনা, এ নিয়ে যদি প্রশ্ন উঠে তাহলে নির্বাচন কমিশন তদন্ত সাপেক্ষে সে নির্বাচন বাতিল হতে পারবে এবং নির্বাচন কমিশন পুনঃনির্বাচনের নির্দেশ দিতে পারবে।
“এবার এই প্রশ্নগুলো উঠেছে, আপনারা তুলেছেন আমরাও তুলেছি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে নাই, নির্বাচন কমিশন বরং তড়িঘড়ি করে গভীর রাতে গেজেট প্রকাশ করে দিয়েছে।”
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বদিউল আলম বলেন, “গেজেট প্রকাশ করার তাৎপর্য হল, যখন গেজেট প্রকাশ হয়, তখন নির্বাচন কমিশন মুক্ত হয়ে যায়। তাদের আর কোনো কিছু করার নাই। এখন আদালতের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
কিন্তু অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনেরই তদন্ত করা ‘উচিত ছিল’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “যেহেতু এই প্রশ্নগুলো উঠেছে যে তড়িঘড়ি করে… আমরা নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছিলাম যেন তদন্ত সাপেক্ষে এই ঋণখেলাপি বিলখেলাপি, দ্বৈত নাগরিক এবং বিভিন্ন যেসব ক্ষেত্রে অযোগ্যতা আছে, সেগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে তারপর যেন এই গেজেট প্রকাশ করে।
“আমরা এক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছিলাম। আমরা বলেছিলাম, নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের পরে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনটা সুষ্ঠু হয়েছিল কিনা এটা সার্টিফাই করতে। এটা গুরুত্বপূর্ণ।”
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২০৯ আসনে নিরঙ্কুশ জয় পায় বিএনপি। তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী অনিয়মের অভিযোগ তুলে ৩২টি আসনে ভোট পুনর্নগণনার দাবি তোলে।
এদিকে ভোটের ফল প্রকাশের পর ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতেই গেজেট জারি করে নির্বাচন কমিশন। জামায়াতকে অভিযোগের বিষয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সুজন সম্পাদক বলেন, “নির্বাচন কমিশনই নির্বাচন করার জন্য স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এখন তারা যেটা করে, রিটার্নিং অফিসাররা যে ফলাফল দেয়, এটাই তারা গেজেট হিসেবে প্রকাশ করেছে। তারা যে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, সেই দায়িত্বটা পালন করেনি।”
প্রার্থী বাছাইয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সাংবাদিকদের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান বদিউল আলম মজুমদার।
তিনি বলেন, “যদি হলফনামা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠে, কোনো অভিযোগ ওঠে, তাহলে নির্বাচন কমিশন এখনো, এই গেজেট প্রকাশের পরেও তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। তারা নির্বাচনও বাতিল দিতে পারবে।
“আপনাদের (সাংবাদিকদের) সুযোগ আছে, আপনারা অনুসন্ধানী রিপোর্ট করুন। যদি কোনো তথ্য পান, তাহলে নির্বাচন কমিশন তদন্ত করতে বাধ্য এবং তদন্ত করে তারা নির্বাচন বাতিল করতে পারবে। এই সুযোগটা আমাদের আছে।”





