বিমানবন্দরে প্রবাসী হয়রানি বন্ধে বিশেষ নজরদারি রাখা হবে : মন্ত্রী আরিফ
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২৬:৪২ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধসহ তাদের সব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। মন্ত্রী হওয়ার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রথমবারের মতো নিজ এলাকা সিলেটে পৌছে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়গুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিদেশ গমনেচ্ছুদের যেন ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রতারণার শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ নজরদারি রাখা হবে। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সবার সহযোগিতায় দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সিলেট-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, কারও প্রতি বৈরি মনোভাব নয়—সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দেশকে এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নির্বাচনী এলাকার জনগণ তাকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছেন। সেই রায়ের প্রতি সম্মান রেখে তার দলের নেতা তারেক রহমান তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এটিকে তিনি সিলেটবাসীর জন্য উপহার হিসেবে উল্লেখ করেন।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মানুষের প্রত্যাশা ও দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ করতে হবে। এখন থেকেই নিজ এলাকার উন্নয়নে মনোযোগ দিতে হবে। আমার হাতে অনেক কাজ, কিন্তু সময় বেশি নেই। পাঁচ বছর দেখতে দেখতে চলে যাবে। তাই এখন থেকেই কাজ শুরু করতে হবে, বলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, প্রথম রোজায় সিলেট এসে হযরত শাহজালাল দরগাহ ও হযরত শাহপরান দরগাহ জিয়ারত এবং পরিবারের সঙ্গে কাটাবো। শুক্রবার নিজ নির্বাচনী এলাকায় সময় দেবো। সিলেটে পৌঁছালে বিমানবন্দরে প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী তাকে স্বাগত জানান।
মন্ত্রী বলেন, সিলেটের উন্নয়নের জন্য আগামী দুই-চার দিনের মধ্যে সব এমপি ও মন্ত্রীদের নিয়ে বসব। এলাকার যেসব সমস্যা আছে, তা নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেব।
মন্ত্রিত্ব পাওয়ায় কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি প্রথমে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীনের দরবারে শুকরিয়া আদায় করি। গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জবাসী আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, এটি আমার একার সম্মান নয়—সিলেটবাসীর সম্মান।
প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবে সিলেটের গুরুত্ব তুলে ধরে আরিফুল হক বলেন, ঢাকা বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক সেবা কেন্দ্র থাকলেও সিলেটে তেমন সুবিধা নেই। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রবাসীদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ শুরু করব।
সিলেটের বিমানবন্দরের সম্প্রসারণকাজের ধীরগতি, কার্গো ফ্লাইট বন্ধ এবং কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ থাকার বিষয়েও তাঁর নজর রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, সব বিষয় আমাদের মাথায় আছে। আমরা দায়িত্ব নিয়েছি, আমাদের ১৮০ দিনের একটি কর্মপন্থা রয়েছে। ১৮০ দিন পর আপনাদের সামনে অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরব।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, রাস্তাঘাট, বিমানবন্দর ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানেও সমন্বিত উদ্যোগ হবে, সময় খুব বেশি নেই। কাজ শুরু করতে হবে এখনই।
সংবর্ধনাকালে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় ঋণ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী, গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি সাদিকুর রহমান সাদিক, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আব্দুস শুকুর, এডভোকেট কামাল হোসেন, জেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক স্টেলিং তারিয়াং, জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি হাজী সুরমান আলী, গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলম স্বপন, গোয়াইনঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহবুব আলম, সাধারণ সম্পাদক মো: জসিম উদ্দিন, গোয়াইনঘাট উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খালেদ আহমদ, ডৌবাড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আরিফ ইকবাল নেহাল, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর, সহ-সভাপতি হাজী আব্দুর রকীব, সওকত আলী বাবুল ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান লাল মিয়া প্রমুখ।
এর আগে পাঁচদিনের সরকারি সফরে দুপুরে সিলেটে পৌছেন আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি এই ৫ দিন সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলায় প্রশাসনিক বৈঠক, ধর্মীয় কর্মসূচি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
সফরসূচি অনুযায়ী প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তিনি বিমানযোগে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন। এরপর সেখানে নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের সাথে কুশলাদি বিনিময় শেষে সার্কিট হাউসে অবস্থান করেন।
পরদিন শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত এবং পবিত্র জুমার নামাজে অংশগ্রহণ করবেন তিনি। পরে দরগাহ এলাকায় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেলে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির আয়োজনে ইফতার মাহফিলে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে সড়কপথে মৌলভীবাজারে যাবেন তিনি। সেখানে সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমানের কবর জিয়ারত, বরুণা মাদরাসা পরিদর্শন এবং স্থানীয় ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। পাশাপাশি পারিবারিক কবর জিয়ারতসহ ব্যক্তিগত কর্মসূচিও রয়েছে। বিকেলে কমলগঞ্জ থেকে সিলেটে ফিরে রাত্রীযাপন করবেন।
সফরের চতুর্থদিন রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন।
শেষদিন সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে বিকেলে রাজধানীতে পৌঁছানোর মাধ্যমে সফর শেষ করবেন। সফরকালে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রটোকল নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।




