শপিং মলে ভিড় বাড়ছে ক্রেতাদের
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ মার্চ ২০২৬, ৭:১৬:২৬ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘিরে কেনাকাটা করতে সিলেট নগরীর শপিংমলগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। গত রোববার (১ মার্চ) ১০ রমজান থেকে মূলত ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ঈদের কেনাকাটা ধীরে ধীরে জমতে শুরু করেছে। বিশেষ করে নগরীর পোশাক ব্র্যান্ড শো-রুম ও শপিং মলে ক্রেতার আনাগোনা বাড়ছে। তবে ফুটপাত ও হকার্স মার্কেটে এখনো জমে উঠেনি ঈদ বাজার। ফুটপাতে ঈদ বাজার জমতে আরও সময় লাগবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
ক্রেতারা বলছেন, শেষ মুহুর্তে নতুন ডিজাইনের পোশাকের কালেকশন সাধারণত কম থাকে। তাই আগেবাগেই কেনাকাটা সম্পন্ন করতে চান গ্রাহকরা।
অভিজাত শ্রেণীর লোকজন মূলত নগরীর নয়াসড়ক ও কুমারপাড়া এলাকায় কেনাকাটা করে থাকেন। এসব এলাকার পোশাক শো-রুৃমগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, নানা বয়সী মানুষ নতুন পোশাক কিনতে এসেছেন। পরিবারের সবাই মিলে কেনাকাটা করতে আসছেন। আড়ংসহ সবগুলো ব্র্যান্ডের শো-রুমেই গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে।
আড়ংয়ে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাঈদা জাহান বলেন, ১৫ রমজানের আগ পর্যন্ত কিছুটা রিলাক্সে কেনাকাটা করা যায়। তাই স্বামী ও সন্তানসহ কেনাকাটা করতে এসেছি। মোটামুটি ৫০ ভাগ কেনাকাটা শেষ। বাকিটা আগামী কয়েকদিনে শেষ করে ফেলবো। ফ্যাশন ব্র্যান্ড সেইলরের সেলস এক্সিকিউটিভ সাদিয়া আফরিন বলেন, ঈদ ঘনিয়ে আসায় বিক্রি বেড়েছে। ১৫ রমজানের পর পুরোপুরি ঈদ বাজার জমবে।
নগরীর আল হামরা, সিটি সেন্টার, ব্লু-ওয়াটার, শুকরিয়া মার্কেট, সিলেট প্লাজা, আহমদ ম্যানশন ও মিতালী ম্যানশনেও মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকজন ঈদের কেনাকাটা করে থাকেন। এসব মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের আনাগোনা লেগে থাকে।
ফেইথ লাইফ স্টাইলের কর্ণধার মোহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ বলেন, ঈদের পর্যাপ্ত কালেকশন রয়েছে। ২০ রমজান পর্যন্ত পোশাকের শিপমেন্ট আসবে। ক্রেতাদের জন্য পর্যাপ্ত ডিজাইনের পোশাক রয়েছে। তিনি বলেন, ঈদ বাজার জমতে শুরু করেছে। আগের চেয়ে বিক্রি বেড়েছে।
বিক্রেতারা জানান, এবার হালকা ও আরামদায়ক গ্রীষ্মকালীন পোশাকের চাহিদা বেশি। নারীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে পাকিস্তানি, চায়না ও ইন্ডিয়ান থ্রি-পিস। মানভেদে এসব থ্রি-পিস বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার উপরে। দেশিয় থ্রি-পিস মিলছে ৭০০ থেকে ৫ হাজার টাকায়, আর শাড়ির দাম শুরু হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে, যা ভালো মানে পৌঁছাচ্ছে ৮ হাজার টাকায়। পুরুষদের পোশাকেও রয়েছে বৈচিত্র্য। ভালো মানের পাঞ্জাবি, শার্ট বা জিন্স ১৫০০ টাকার নিচে পাওয়া কঠিন বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
ক্রেতারা জানান, ঈদের সময় অনেক পণ্যর দামই বেড়ি যায়। অতিরিক্ত ভিড় এড়াতেই আগেই কেনাকাটা শেষ করতে চাচ্ছেন ক্রেতারা। শুধু শপিংমল নয়, ফুটপাতের দোকানেও আসছেন ক্রেতারা। হাসান মার্কেট ও লালদিঘী হকার্স মার্কেটেও ক্রেতাদের সমাগম বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানের আগের নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতির প্রভাবেও গজ কাপড়ের বিক্রি প্রত্যাশার তুলনায় কম। গজ কাপড়ের বিক্রেতারা জানান, বর্তমানে সবার রেডিমেড পোশাকের দিকে আগ্রহ। ফলে চাহিদা নেই গজ কাপড়ের। ক্রেতাদের প্রত্যাশা দাম কিছুটা সহনীয় হলে ঈদের আনন্দ আরও পূর্ণতা পাবে। আর ব্যবসায়ীরা আশাবাদী, রমজানের শেষভাগে বিক্রি বাড়বে এবং ঈদ বাজারে ফিরবে প্রাণচাঞ্চল্য।





