ভাঙাচোরা সড়কে শাবিতে দূর্ভোগ
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ মার্চ ২০২৬, ৭:৫৯:৪০ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : ভাঙাচোরা সড়কে অভাবনীয় দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন কাজের কারণে ভারী যানবাহন চলাচল করায় ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ সড়কে বেহাল দশা বিরাজ করছে। সড়গুলো ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী না হওয়ায় মূলত এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙাচোরা সড়ক আর ধোলা বালুর মিশ্রণে ক্যাম্পাসে চলাফেরাই দায় শিক্ষার্থীদের।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে। একাডেমিক ভবন ও আবাসিক হলসহ একাধিক প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ একযোগে চলছে। এসব কাজের উপকরণ নিয়ে ভারী ট্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়েই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে গোলচত্ত্বর সড়কটির করুণ দশা। প্রায় বছর খানেক ধরে সড়কটির পিচ ঢালাই উঠে গেছে। ধোলা বালুতে সড়ক দিয়ে চলাচল করাই দায়। মুখে হাত দিয়ে কিংবা মাস্ক পরে চলাচল করতে হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর। এছাড়া এই সড়কে বেশ ঝুঁকি নিয়েই রিক্সা ও ইজি বাইকে যাতায়াত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী।
প্রধান সড়ক ছাড়াও গোলচত্ত্বর থেকে সৈয়দ মুজতবা আলী আবাসিক হল পর্যন্ত সড়কটিও ভাঙাচোরা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কের পিচ উঠে গিয়ে খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এই সড়ক দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী টিলারগাও ও নয়াবাজারসহ আশপাশের এলাকার মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন আবাসিক হলগুলো ও পাশ্ববর্তী মেসগুলোর হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের সড়ক দিয়ে চলাচল করা খুবই যন্ত্রণাদায়ক ও কষ্টকর। সড়ক খানাখন্দে ভরা ও ভাঙাচোরা হওয়ায় চলাচল অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কগুলো সংস্কার করা সময়ের দাবি।
ক্যাম্পাসের ইজিবাইক চালক তেজাব মিয়া বলেন, ভাঙ্গা সড়কে গাড়ি চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া খুব দ্রুত গাড়ির পার্টস নষ্ট হয়ে যায়। ফলে সড়কটি সংস্কার খুব জরুরী।
জানতে চাইলে প্রধান প্রকৌশলী মো. জয়নাল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেকগুলো প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ চলছে। এই কাজের প্রয়োজনীয় ভারী সরঞ্জাম ও নির্মাণসামগ্রী বহনে বিকল্প সড়ক নেই। ফলে বাধ্য হয়ে যানবাহনগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো ব্যবহার করতে হচ্ছে। যার ফলে সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত বড় পরিসরে সংস্কার সম্ভব নয়, কারণ ভারী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে সড়ক নষ্ট হয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তাই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হলে পরিকল্পিতভাবে সড়কগুুলো নতুন করে তৈরি করা হবে।





