জকিগঞ্জে রাস্তা নির্মাণ চেষ্টায় উত্তেজনা
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ মার্চ ২০২৬, ৯:০৮:৫৬ অপরাহ্ন

জকিগঞ্জ প্রতিনিধি : সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার পইল গ্রামে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (২য় আদালত) সিলেটে একটি বিবিধ মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৫ ধারা-এর অধীনে দায়ের করা হয়েছে। আদালত এই রাস্তায় কাজ করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
মামলার বাদী ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি মৃত মো. আব্দুল মুছব্বির চৌধুরীর পুত্র এবং জকিগঞ্জ উপজেলার পইল গ্রামের বাসিন্দা। মামলার বিবাদীরা হলেন, অলি চৌধুরী, পিতা মৃত আব্দুল হামিদ চৌধুরী, শাহিন আহমদ চৌধুরী, পিতা মৃত সামসুল ইসলাম চৌধুরী, মারুফ আহমদ, পিতা মৃত আকল মিয়া, রায়হান আহমদ, পিতা হেলাল আহমদ এবং তাদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জন। তাদের সবার বাড়ি পইল গ্রামে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বাদীর পিতা ও চাচা ২০০৪ সালের ২০ জুন ২০৮৭ নম্বর দলিলের মাধ্যমে জকিগঞ্জ উপজেলার মইয়াখালী গ্রামের বাসিন্দা মো. তছির আলীর কাছ থেকে উক্ত জমি ক্রয় করেন। এরপর থেকে তারা জমিটির মালিকানা ও দখল ভোগ করে আসছিলেন। পরবর্তীতে তাদের মৃত্যুর পর বাদী ও অন্যান্য উত্তরাধিকারীরা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বিবাদীরা জোরপূর্বক জমির উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করছে। এ ধারাবাহিকতায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্র দা, বাঁশের লাঠি, কোদাল, খন্তি, শাবলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে ঘটনাস্থলে জড়ো হয় এবং জমি দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় বাদী ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বাধা দিলে বিবাদীরা তাদের মারধরের উদ্দেশ্যে তেড়ে আসে। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। অভিযোগ রয়েছে, যাওয়ার সময় বিবাদীরা পুনরায় লোকজন নিয়ে এসে জমি দখলের হুমকি দেয়।
এদিকে, একই বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছেও একটি লিখিত আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, পইল গ্রাম চকে জে.এল নং ৩৮, খতিয়ান নং ২০০ ও ২৩৫ এলাকায় সাতটি পরিবারের নিজস্ব মালিকানাধীন একটি চলাচলের রাস্তা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তাটি সংশ্লিষ্ট পরিবারের ব্যক্তিগত জমির ওপর দিয়ে চলাচলের জন্য ব্যবহার হয়ে আসছে এবং তারা নিজেরাই এর রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকেন। আবেদনকারীরা দাবি করেন, সম্প্রতি ওই ব্যক্তিমালিকানাধীন রাস্তায় সরকারি বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। বিষয়টি নিয়ে তারা আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন, তবে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
তাদের আশঙ্কা, ব্যক্তিমালিকানাধীন রাস্তায় সরকারি বরাদ্দ কার্যকর হলে ভবিষ্যতে মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আবেদনকারীরা। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে, ঘটনার বিষয়ে জানতে জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে যোগাযোগ করলে বলেন, এরকম একটি বিষয় আমার নজরে এসেছে, আমি তা খতিয়ে দেখছি।





