মজলুমের অগ্নিঅশ্রুতে পুড়ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৬:২৫ অপরাহ্ন
জালিম গণহত্যাকারী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের জন্য কোন অনুকম্পা, ক্ষমা ও সহানুভূতি থাকা উচিত নয়, এমন অভিমত বিশ্বের কোটি কোটি সচেতন ও বিবেকবান মানুষের। তাদের মতে, ইসরাইল নামক এই জায়নবাদী রাষ্ট্রটির সকল নখর উপড়ে না ফেলা পর্যন্ত তাকে রেহাই বা ক্ষমা করা উচিত নয়, কারণ সুযোগ পেলেই সে নখর বসাবে মধ্যপ্রাচ্যের মজলুম জনগণের বুকে ও পিঠে। ছিন্নভিন্ন করে ফেলবে তাদেরকে নখরাঘাতে। গতকাল আল জাজিরায় প্রকাশিত এক সংবাদে জানা গেছে, ইরান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার অনুরোধ সম্বলিত বিশেষ বার্তা পেয়েছে তেহরান। সরাসরি নয়, বরং কয়েকটি বন্ধু রাষ্ট্রের মাধ্যমে ওয়াশিংটন এ আলোচনার অনুরোধ পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। তবে এ প্রক্রিয়ার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা ঐকমত্যের দাবিকে মিথ্যা খবর বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রায়াত্ত্ব বার্তা ইরনা’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার অনুরোধ নিয়ে কিছু বন্ধু দেশের কাছ থেকে তারা বার্তা পেয়েছেন। তবে এ বার্তার জবাবে ইরান কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বাগাই বলেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে যে কোন ধরনের হামলা চালানো হলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, হরমুজ প্রণালী এবং যুদ্ধ বন্ধের শর্ত নিয়ে তেহরানের আগের অবস্থানে কোন পরিবর্তন আসেনি। তিনি আরো বলেন, মূলত: আর্থিক ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যে চোরাবালিতে আটকে গেছে, তা থেকে বাঁচতেই এসব মিথ্যা খবর ছড়ানো হচ্ছে। এদিকে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোন ধরনের আলোচনা বা যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। এ প্রসঙ্গে ইরানের জনৈক উর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, আমাদের নতুন নেতা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যতক্ষণ না পরাজয় স্বীকার করছে, নতজানু হচ্ছে ও ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আলোচনা নয়।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি একজন ইয়াতিম যিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নৃশংস হামলায় পিতামাতা স্ত্রী সন্তানসহ প্রায় সকল নিকটাত্মীয়কে হারিয়েছেন। তিনি যতো বড়ো নেতাই হোন না কেনো তিনি মানবীয় দোষ-গুণের অধিকারী একজন মানুষ। তার মাঝেও প্রতিশোধ স্পৃহা থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তার মনে প্রতিশোধ প্রবণতা থাকা অসম্ভব নয়। আর এই প্রবণতা তাকে ইরানের শত্রু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে একটু বেশী মাত্রায় কঠোর ও জিঘাংসু করে তুলতে পারে। আর এর আলামত এখন লক্ষ্য করা যাচ্ছে ইরানের ভয়ংকর সব হামলার মধ্যে দিয়ে। অনেকে ভেবেছিলেন ঈদের দিন অন্তত: ইরান তাদের প্রচন্ড হামলা সীমিত রাখবে। কিন্তু ঘটেছে ঠিক এর উল্টোটা। ঈদের দিন প্রচন্ডতর হামলা চালিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল ও তাদের মিত্র দেশগুলো এখন আটকা পড়েছে এক ভয়ানক চোরাবালিতে, যা থেকে তারা উদ্ধার পাচ্ছে না, বরং ক্রমশ: তলিয়ে যাচ্ছে বিনাশের দিকে। দেশ দু’টির উপর্যুপরি বিমান হারানো, পরমাণু শহর দিমোনায় বিধ্বংসী হামলা ও হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ায় তেলের মূল্যের উর্ধ্বগতি চরম বিপাকে ফেলেছে তাদের। অপরদিকে ইরান এই বিশ্বাসঘাতক নিষ্ঠুর দেশ দু’টিকে চূড়ান্ত শিক্ষা দিতে সম্ভব সকল পন্থা অবলম্বন করছে। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্ব অস্থির হয়ে ওঠেছে, অশান্তির বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বেশীর ভাগ মানুষ শান্তিকামী। আমরা শান্তি চাই। আমরা অন্যায়কারীর শাস্তির পাশাপাশি শান্তি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রত্যাশা করি। যুদ্ধ শেষ হোক, শান্তি ফিরে আসুক মধ্যপ্রাচ্যে এটাই এ মুহূর্তে সবচেয়ে কাম্য ও প্রত্যাশিত।



