আপোস করবে না ইরান : ইসরায়েলে পাঠাচ্ছে ‘মিসাইলের ঢেউ’
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৯:৩১ অপরাহ্ন
জালালাবাদ রিপোর্ট : আপোস করছে না আয়াতুল্লাহ খামেনির ইরান। ১০ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ইসরায়েলে ৭ দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।
ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ‘চূড়ান্ত বিজয়’ অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের সশস্ত্র বাহিনী লড়াই অব্যাহত রাখবে।
ইরানের খাতাম-আল আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কর্মকর্তা আলী আবদুল্লাহি আলিয়াবাদি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় গর্বিত এবং অবিচল। চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত এই যাত্রা থামবে না।
জেনারেল আলিয়াবাদি তার বক্তব্যে ‘চূড়ান্ত বিজয়’ বলতে ঠিক কী বুঝিয়েছেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেননি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্ভাব্য কোনো আলোচনায় যাতে ইরান কোনো ধরনের নতি স্বীকার না করে বা বড় কোনো ছাড় না দেয়, সেই লক্ষ্যেই দেশটির সামরিক বাহিনী এই হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
বিমান হামলা অব্যাহত থাকা অবস্থায় কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় বসবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাবের কথা বলা হলেও ইরান সেই খবর অস্বীকার করেছে।
এদিকে, পরশু মধ্যরাত থেকে এই হামলা শুরু করে তেহরান। ইসরায়েল বলছে, ৭ দফার মধ্যে সর্বশেষ দফায় ডিমোনা শহরে হামলা চালায় তেহরান। হামলা হয়েছে তেল আবিবেও।
ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে হামলার পর দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সেখানে উদ্ধার কর্মী পাঠায়। তেল আবিবের হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন, আগুন এবং কালো ধোঁয়া দেখা যায়।
অন্যদিকে, ইসরায়েলও ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গত রাতে দিকে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ৫০টির বেশি লক্ষ্যবস্তু হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থল ও অন্যান্য সামরিক স্থাপনায় এসব হামলা চালানো হয়েছে।
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৪ হাজার ৮২৯ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
ইসরায়েলে আহত এ ব্যক্তিদের মধ্যে ১১১ জন এখনো হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং ১২ জনের অবস্থা গুরুতর।
ইসরায়েলের তেল আবিবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম হারেৎজ।
সংবাদপত্রটির প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ওই শহরের বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জরুরি সেবা সংস্থাগুলো বলেছে, ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, এমন একটি স্থানে ছয়জন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হামলায় মধ্য তেল আবিবে একটি ভবন ও এর সংলগ্ন রাস্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখানে বেশ কিছু গাড়িতে আগুন ধরে যায়।
এছাড়া রশ হেইন এলাকায় ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হারেৎজ জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দলগুলো ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছে।
ইসরায়েলি হোম ফ্রন্ট কমান্ড জানায়, এ হামলার আগে গতকালই ইসরায়েল লক্ষ্য করে তিন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। দেশটির উত্তরাঞ্চলেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এসব হামলা এমন এক সময় চালানো হলো, যখন ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘খুবই ভালো’ আলোচনা হয়েছে। যদিও তাঁর এ দাবি মিথ্যা কথা বলে নাকচ করে দিয়েছে ইরান।
এদিকে, ইরানের রাজধানী তেহরান ও অন্যতম শহর ইসফাহানে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলও ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গত রাতে দিকে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ৫০টির বেশি লক্ষ্যবস্তু হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থল ও অন্যান্য সামরিক স্থাপনায় এসব হামলা চালানো হয়েছে।
ইসরায়েল আরেক দফায় ইরানে হামলা শুরু করেছে-ইসরায়েলি বাহিনীর এমন ঘোষণার কিছু সময় পর তেহরান ও ইসফাহানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেল। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আর কিছু জানা যায়নি।





