তিন কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রকে বেকায়দায় ফেলছে ইরান
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ মার্চ ২০২৬, ৮:৪৩:৪৩ অপরাহ্ন
চালকবিহীন ‘নৌ ড্রোন’ নামাল যুক্তরাষ্ট্র
জালালাবাদ রিপোর্ট : প্রায় চার সপ্তাহ ধরে কার্যত বন্ধ রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে এবং এ অচলাবস্থা দ্রুতই কাটার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
পারস্য উপসাগরে ইরানের হুমকি ও জাহাজে হামলার আশঙ্কায় এ সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়েই সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া বিশ্বের খাদ্য উৎপাদনে প্রয়োজনীয় সার সরবরাহের প্রধান পথও এটি।
জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অবরোধ তুলে নিতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কথা বলছেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে আরও হাজার হাজার সেনা মোতায়েন ও তেলবাহী জাহাজগুলোকে মার্কিন নৌবাহিনীর পাহাড়ায় পার করে দেওয়ার উপায় খুঁজছেন তিনি।
তবে অনেক ক্ষেত্রেই ইরানের পাল্লা এখনো ভারী। এর একটি বড় কারণ, দেশটির অপ্রচলিত যুদ্ধপদ্ধতি, যেমন সস্তা ড্রোন ও সমুদ্রমাইনের ব্যবহার। অন্য কারণটি হলো ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান। এ তিন বাস্তবতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য দেশগুলোর পক্ষে এ পথে জাহাজ রক্ষা করা বা সামরিকভাবে এ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তা ছাড়া, এ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা ইরানের জন্য আর্থিকভাবেও লাভজনক। গত ২৩ মার্চ ‘লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স’-এর একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, অন্তত দুটি জাহাজ এ পথ দিয়ে নিরাপদে যাওয়ার জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করেছে।
ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কিছু জাহাজকে নিরাপদে পার করে দেওয়ার বিনিময়ে তাঁরা এভাবে ফি নেওয়া অব্যাহত রাখবেন।
এদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাধারণ মানুষকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি সংলগ্ন এলাকাগুলো দ্রুত খালি করার আহ্বান জানিয়েছে।
আইআরজিসি বলেছে, মার্কিন সেনাদের ‘যেখানেই পাওয়া যাবে’, সেখানেই তাঁদের ওপর হামলা চালানো আইআরজিসির ‘পবিত্র দায়িত্ব’।
চালকবিহীন ‘নৌ ড্রোন’ নামাল যুক্তরাষ্ট্র :
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে টহল দেওয়ার জন্য চালকবিহীন ‘ড্রোন স্পিডবোট’ মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এ প্রথমবারের মতো ওয়াশিংটন কোনো সক্রিয় যুদ্ধে এ ধরনের নৌযান ব্যবহারের কথা স্বীকার করল। এর আগে এসব নৌযান মোতায়েনের খবর কোথাও প্রকাশিত হয়নি।
এ ড্রোন বোটগুলো নজরদারি করার পাশাপাশি আত্মঘাতী হামলার কাজেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
গত বছর রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চালকবিহীন নৌবহর তৈরির ক্ষেত্রে মার্কিন নৌবাহিনী বেশ কিছু বাধার সম্মুখীন হয়েছিল। তবে সে প্রতিকূলতা কাটিয়েই এগুলো এখন যুদ্ধক্ষেত্রে নামানো হলো।
ইউক্রেন যুদ্ধে বিস্ফোরকবাহী স্পিডবোট দিয়ে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরের ব্যাপক ক্ষতি করার পর থেকে চালকবিহীন এ নৌযানগুলো আলোচনায় আসে। প্রায় এক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরু করার পর থেকে ইরানও অন্তত দুইবার পারস্য উপসাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলার জন্য ‘সি ড্রোন’ বা সমুদ্র-ড্রোন ব্যবহার করেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এই সংঘাতের ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ হাজার মানুষ।
‘ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ’ (আইএফআরসি)-এর মারিয়া মার্টিনেজ এই হতাহতের তথ্য জানিয়েছেন।




