শমশেরনগর ক্যামেলিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ, দুর্ভোগে চা শ্রমিক
প্রকাশিত হয়েছে : ৩১ মার্চ ২০২৬, ৬:০৩:২৫ অপরাহ্ন

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: ডানকান ব্রাদার্স লিমিটেড কোম্পানীর অধীনস্থ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন চা বাগান শ্রমিকরা। তবে গত ২৭ মার্চ সকালে চিকিৎসাধীন ঐশী রবিদাস নামে ৭ম শ্রেণি পড়ুয়া এক চা শ্রমিক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। ভুল চিকিৎসায় ঐ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে চা শ্রমিকরা বিক্ষোব্ধ হয়ে হাসপাতালে ফুলের টব ভাংচুর ও চিকিৎসকসহ স্টাফদের অবরুদ্ধ করে। এ ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় চিকিৎসকরা হাসপাতাল ত্যাগ করার পর থেকে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শমশেরনগর চা বাগানের রবিদাস টিলার বাসিন্দা বাবুল রবিদাসের মেয়ে ঐশী রবিদাস (১৪) মাথা ব্যথা নিয়ে গত ২৬ মার্চ রাতে শমশেরনগর ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়। এরপর ভুল চিকিৎসায় ঐশীর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ চা শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং হাসপাতালে গিয়ে স্টাফদের অবরুদ্ধ করে। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা হাসপাতালে ফুলের কয়েকটি টব ভাঙ্গচুর করে এবং ইনচার্জ ডা. আনোয়ার হোসেনের অপসারণ দাবি করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে ডা. আনোয়ার হোসেনকে নিরাপত্তার জন্য অন্যত্র সরিয়ে দেয়। ঐদিন কর্মরত অন্যান্য চিকিৎসক ও নার্সরাও নিরাপত্তার কথা ভেবে হাসপাতাল ত্যাগ করেন। ফলে ২৭ মার্চ থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে হাসপাতাল দেখভালে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করছেন। এতে সাধারণ চা শ্রমিকরা চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে না পারায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ১৯৯৪ সনে শমশেরনগর এর ফাঁড়ি কানিহাটি চা বাগানে স্থাপিত হয়। ডানকান ব্রাদার্সের ১৫টি চা বাগানের প্রায় লক্ষাধিক চা শ্রমিকদের এই হাসপাতাল শুরুর পর থেকে অস্ত্রোপচারসহ অত্যাধুনিক চিকিৎসা সুবিধা প্রদান করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকটসহ নানা জটিলতায় গত কয়েক বছর ধরে অস্ত্রোপচার হচ্ছে না। তবে অন্যান্য পরীক্ষা নিরীক্ষাসহ চিকিৎসা সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিদিন বিভিন্ন চা বাগান থেকে রোগীরা হাসপাতালে এসে সেবা গ্রহণ করতেন। তবে গত ২৭ মার্চ থেকে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় সাধারণ চা শ্রমিকরা উপজেলা ও জেলা সদর হাসপাতালসহ অন্যান্য স্থানে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। এতে শ্রমিকদের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে।
স্থানীয় চা শ্রমিকরা জানান, চিকিৎসাধীন শিশু মৃত্যুর পর ২৭ মার্চ বিক্ষোব্ধ শ্রমিকদের এক পর্যায়ে শান্ত করা হলেও নিরাপত্তার কথা বলে চিকিৎসকরা হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। এতে আমাদের শ্রমিকরা চিকিৎসা সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছেন। চিকিৎসকরা হাসপাতালে এসে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করার জন্য আমরা তাদেরকে আহ্বান জানিয়েছি।
এ ব্যাপারে শমশেরনগর চা বাগান ব্যবস্থাপক ও ডানকান ব্রাদার্সের উপমহাব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান জানান, বিষয়টি ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ পর্যবেক্ষণ করছে। কর্তৃপক্ষ ঘটনা খতিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতাল খোলা রয়েছে। তবে নিরাপত্তাহীনতায় চিকিৎসকরা উপস্থিত না থাকায় সেবা প্রদান করা যাচ্ছে না। মঙ্গলবার বিকালে হেড অফিস এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে শুনেছি।




