হাওর রক্ষা বাঁধে অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদে গণসমাবেশ
প্রকাশিত হয়েছে : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ৭:০১:০৮ অপরাহ্ন
জামালগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জে হাওর রক্ষা বাঁধে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে গণ-সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন। জামালগঞ্জ উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির আয়োজনে শনিবার বিকালে উপজেলার সাচনা বাজারে এ গণ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের জামালগঞ্জ উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন এর সভাপতিত্বে ও জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জামালগঞ্জ উপজেলার সদস্য সচিব তোফায়েল আহমেদ।
বক্তব্য রাখেন হালির হাওরের কৃষক চান্দ আলী, মফিজ আলী, আব্দুর রহিম, রজব আলী, ছাদির মিয়া, পাকনার হাওরের কৃষক গিয়াস উদ্দিন ও আব্দুল্লাহ।
অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের জেলা কমিটির সভাপতি মো. রাজু আহমেদ, সহ সভাপতি ওবায়দুল মুন্সী, সমাজসেবক নুরুল হক, জেলা সদস্য আরিফুল ইসলাম সরকার, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমদ, সদস্য সচিব শাহা আলম, জামালগঞ্জ উপজেলা কমিটির সদস্য ছাদিকুর রহমান স্বাধীন, মুরছালিন, আলীনুর, শহিবুর, আবু ইউসুফ নাইম, তাজুল ইসলাম প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে পিআইসি গঠন থেকে শুরু করে কাজের প্রাথমিক পর্যায়েই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি ছিলো। অতিরিক্ত বরাদ্দ, নিম্নমানের কাজ এবং অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে তারা বলেন, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন নিয়মিতভাবে কাজ করছে। তারা আরও জানান, বিভিন্ন পিআইসি পরিদর্শন করে অনিয়মের তথ্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে কিন্তু দৃশ্যমান কার্যকর কোন ব্যবস্থা নিতে দেখিনি।
বক্তারা বলেন, পাকনার হাওরের গজারিয়া খাল ও পাটামারা খাল যথাযথ খনন, স্লুইচ গেইট সংস্কার করতে হবে, জামালগঞ্জ সকল হাওরে জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ও অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মানের ফলে সুনামগঞ্জে হাজার হাজার হেক্টর বোরো ফসলি জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে, কৃষকরা সেই ধান আর রক্ষা করতে পারবেন কিনা শঙ্কায় আছেন। এই অপরিকল্পিত বাঁধ ও অপ্রয়োজনীয় পিআইসির কারণে কৃষকদের যে ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, যারা এই অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করতে হবে, এবং সুনামগঞ্জ থেকে তাদের অপসারণ করতে হবে বলে দাবী তুলেন বক্তারা।





