ছিলটের লোক ঐহিত্য ও সংস্কৃতিকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে হবে
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৫৮:১৩ অপরাহ্ন

দিনব্যাপী ছিলটি সাহিত্য ও সংস্কৃতির নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ‘হাছনরাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ’ আয়োজিত ‘ছিলটি লোক উৎসব-২০২৬’| ছিলটের আবহমানকালের শেকড়ের সংস্কৃতিকে উজ্জীবিত করতে এবং ছিলটি নাগরী ভাষায় সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার মাহাত্ম্য বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বৃহস্পতিবার ছিলটি ঐতিহ্য চত্বর (আলী আমজাদের ঘড়ি ও কীনব্রীজ চাঁদনীঘাট, সারদা হল) প্রাঙ্গনে সকাল থেকে উৎসব শুরু হয়ে চলে রাত ১০টা পর্যন্ত| উৎসবে সিলেটের স্থানীয় শিল্পীরা একে একে পরিবেশন করেন লোক গান, দামাইল গান, কবিতা, ছড়া, পুথিঁ, নাটকসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান|
সন্ধ্যায় ৭টায় ‘ছিলটি লোক উৎসব-২০২৬’ এর দ্বিতীয় ও সমাপনী সেশনে হাছনরাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. জহিরুল ইসলাম অচিনপুরী-র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনমাগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিজান| বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ-সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক, সিলেট মহানগর সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক ও সিলেট রেড ক্রিসেন্টের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী (ভিপি মাহবুব), সিলেট জেলা জাসাসের সদস্য সচিব রায়হান হোসেন খান| ¯^াগত বক্তব্য রাখেন হাছনরাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো. সোলেমান হোসেন চুন্নু|
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, হাজার বছরের নিজ¯^ ভাষা ও নিজ¯^ সংস্কৃতির মাধ্যমে ছিলেটিদের রয়েছে নিজ¯^ আত্মপরিচয়| মরমী কবি ও বাউল সাধকদের মাধ্যমে সমৃদ্ধ হয়েছে সিলেটের সাহিত্য ও সংস্কৃতি| আমাদের ভাষা, সুর ও ঐতিহ্য সম্পৃতি ও উদারতাকে তুলে ধরে| আচার-অনুষ্ঠান, বিয়ের আসর, গান, কবিতা ও পুথিঁর আসর, খাবার-দাবারে সিলেটের গৌরবময় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিজ¯^ ˆবচিত্রতাকে ধারণ করে| বক্তারা আরো বলেন, বিশ^ায়নের এই যুগে বিজাতীয় সংস্কৃতির প্রাবল্যে আমাদের লোক ঐহিত্য ও সংস্কৃতি হারিয়ে যেতে বসেছে| শেকড়ের এই সুর ও ঐতিহ্যকে বাঁচাতে এ ধরনের লোক উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম| ছিলটের এই লোক ঐহিত্য ও সংস্কৃতি হৃদয়ে ধারণ ও চর্চার মাধ্যমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে হবে| বক্তারা ছিলটি সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে জীবন্ত রাখতে এ ধরনের লোক উৎসব নিয়মিত আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন|
হাছনরাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম কামরুল চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে এম কামরুজ্জামান মাসুম, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল নাজনীন আশা এবং সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ফয়সল আহমদ-এর যৌথ পরিচালনায় উৎসবে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি, ˆদনিক সিলেট বাণী’র নির্বাহী সম্পাদক এবং হাছনরাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এম এ হান্নান, সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান নূর, সহ-সভাপতি শাহ মো. আলী রব, সহ-সভাপতি আফজাল হোসেন, সহ-সভাপতি আহমেদুর রহমান ইকবাল, সহ-সভাপতি শাহ আলম চৌধুরী মিন্টু, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বিরহী কালা মিয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম মিয়া, সায়েম আহমদ, শাহ আলমগীর, আব্দুর রব তাফাদার, মো. মতিউর রহমান (এম রহমান), ˆসয়দ নিয়াজ আহমদ ও এসএমএ মাছুম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক দিলোওয়ার হোসেন শিপলু, সফিক মিয়া (সিলেট বিভাগ), সিলেট জেলা কমিটির সভাপতি মো. মস্তাক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মো. লোকমান আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম ইজাজুল হক ইজাজ ও সাংগঠনিক সম্পাদক সামির আহমেদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলা উদ্দিন হোসেন শাহ, এম আমির উদ্দিন পাবেল ও জহির চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক শাহান উদ্দিন নাজু, সহ-প্রচার সম্পাদক মো. সাইফুর রহমান চৌধুরী, অর্থ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন পীর, দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) হাসনাত কবির, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আল-আমিন, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মো. কামাল, সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক জহিদ হাসান সুহেল, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সুলেমান হক টিপু, সহ-যুব ও ক্রীড়া বিয়ষক সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া আনু, সহ-সাহিত্য ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ˆসয়দ আলী আক্তার চৌধুরী, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রাসেল, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য দবিরুজ্জামান চৌধুরী দিপু, সোহেল রানা, আব্দুল্লা আল হাসান, বেলাল আহমদ চৌধুরী, আকরাম, ফারুক আহমদ সুজন, শাহাদাত হোসেন, দুঃখী হাসান, মো. সাহেদ আহমদ শান্ত, এমএইচ হাফিজ, নিলুফা ইসলাম নিলু, সাজু মাহমুদ, মারুফ আহমদ (দুলাল) তালুকদার, খালেদ আহমদ প্রমুখ|
উৎসবে ছিলটি লোক ঐহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদান ৬জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়| সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন, রাগীব রাবেয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রাগীব আলী, ড. মমিনুল হক, মোস্তফা সেলিম, গোলজার আহমদ, মোস্তাক আহমদ চৌধুরী ও আয়াজ বাঙালি| লোক উৎসব সফল করতে সিলেট জেলা ও মহানগর জাসাসের নেতৃবৃন্দ সহযোগিতা করায় আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়| বিজ্ঞপ্তি




