ইরানের ‘গভীর অবিশ্বাস’, কাটছেনা চুক্তির ধোঁয়াশা
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৪৮:৩১ অপরাহ্ন
জালালাবাদ রিপোর্ট : শেষ হলো ইরান-আমেরিকার যুদ্ধবরতির মেয়াদ। তার আগে সোমবার ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাতে জল ঢেলে দেয় ইরান। তেহরানের তরফে জানানো হয়, আমেরিকা অযৌক্তিক দাবি করছে। একেক বার একেক রকম কথা বলছে। স্ব-বিরোধী মতামত দিচ্ছে।
সবচেয়ে বড় ব্যাপার, ইরানের বন্দরগুলিতে তারা জাহাজ চলাচলে অবরোধ করে রেখেছে। এই সব কারণ তুলে ধরে ইরান জানিয়েছে, এই শান্তি বৈঠকে অংশ নেবে না তারা। যদিও ওয়াশিংটন দাবি করেছে, ইসলামাবাদেই অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় শান্তি বৈঠক। পাকিস্তানের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, দু’পক্ষের মধ্যে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল, তা মিটে গেছে। আজ বুধবারই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে শান্তি আলোচনা।
সূত্রের খবর, ওয়াশিংটন এমন একটি চুক্তির জন্য চাপ তৈরি করছে যাতে বিশ্ব বাজার স্থিতিশীল হয় এবং অপরিশোধিত তেলের দাম হ্রাস পায়। একইসঙ্গে তারা চাইছে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ক্ষমতাও যাতে খর্ব হয়। অন্যদিকে, তেহরান তাদের উপর চাপানো সমস্ত নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি চাইছে এবং তারা পারমাণবিক কর্মসূচি অক্ষুন্ন রাখতে চায়। তাই দর কষাকষির জন্য তারা হাতিয়ার করছে হরমুজ প্রণালীকে।
দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার মুখে ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইরান আলোচনায় রাজি হলে আজ বুধবারই প্রতিনিধিদলটি ইসলামাবাদে পৌঁছবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্টের জামাতা জারেড কুশনারও সফরে ভ্যান্সের সঙ্গে থাকবেন।
তবে আলোচনার পরিবেশ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ‘গভীর অবিশ্বাসের’ কথা উল্লেখ করে সতর্ক করেছেন।
পেজেশকিয়ান বলেছেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে অগঠনমূলক ও পরস্পরবিরোধী সংকেত আসছে। এটি প্রকৃতপক্ষে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার একটি চেষ্টা। পেজেশকিয়ান সাফ জানিয়ে দেন, ‘ইরানিরা কোনো শক্তির কাছে মাথা নত করে না।’
অবশ্য রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাঁরা এ আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি ‘ইতিবাচকভাবে বিবেচনা’ করছেন। গুঞ্জন রয়েছে, জেডি ভ্যান্স উপস্থিত থাকলে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে পারেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর হাতে জব্দ হওয়া পণ্যবাহী জাহাজ ‘তুসকা’ এবং এর আরোহীদের দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইরান। এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং ‘ক্রিমিনাল’ বা অপরাধমূলক কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশটি।
মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জাহাজটিসহ এর নাবিক, ক্রু ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দ্রুত ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক পদক্ষেপ। ইরান তার জাতীয় স্বার্থ ও নাগরিকদের রক্ষায় প্রয়োজনে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।
ওদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়াতে চান না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি বলেন, আমাদের হাতে খুব বেশি সময় নেই।
ইরান প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, একটি চুক্তিতে আসতে পারলে ইরান নিজেদের বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবে। তেহরানের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, আলোচনার টেবিলে আসা ছাড়া ইরানি কর্মকর্তাদের সামনে আর ‘কোনো পথ খোলা নেই।




