ভ্যাপসা গরমে বিপর্যস্ত জনজীবন : সিলেটে তাপমাত্রার অনুভূতি ৪১ ডিগ্রি
প্রকাশিত হয়েছে : ২০ মে ২০২৬, ৮:২৮:২০ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার: জ্যৈষ্ঠের শুরুতে ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাতের ভারি বৃষ্টিও দিনের গরমে কোনো প্রভাব ফেলতে পারছে না। প্রখর রোদ আর অসহনীয় গরমে দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হওয়া শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগের সীমা নেই। চরম অস্বস্তিতে দিন কাটাতে হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোমলমতী শিশুদের। পাশাপাশি বেড়েছে বাতাসে আর্দ্রতা। সব মিলিয়ে ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। ভ্যাপসা এই অবস্থা আরও তিন থেকে চারদিন থাকতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে।
এদিকে সিলেটে ভারি বৃষ্টিতেও গরমের তীব্রতা কমছে না। মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানিয়েছে সিলেট আবহাওয়া অফিস। এরমধ্যে মঙ্গলবার দিবাগত রাত বারোটার পর থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত অবিরল ধারায় বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে সকালে রোদ উঠার পর থেকেই গরমের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বিকেলে ভ্যাপসা গরমে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠে। এদিন সিলেটের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে তাপমাত্রা ৩৪ হলেও অনুভূতি ছিল ৪১ এর কোঠায়।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে বাংলা জ্যৈষ্ঠ মাস চলছে, যা গ্রীষ্মকালের একটি উষ্ণ সময়। এ সময়ে গরম বেশি থাকা স্বাভাবিক। তবে সাম্প্রতিক বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়েছে। ফলে ভ্যাপসা গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে এবং ঘাম শুকাতে সময় লাগছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, সহসাই কমছে না অস্বস্তিকর এই গরম। তারা বলেন, এখন দিনের ব্যাপ্তি দীর্ঘ। রাত ছোট। সূর্যের উত্তাপ দীর্ঘ সময় থাকে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় মানুষের শরীর থেকে বেশি ঘাম ঝরছে। ঘাম সহজে শুকাচ্ছে না। এ কারণে আরও বেশি অস্বস্তি অনুভূত হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বুধবার বলেন, এখন জ্যৈষ্ঠ মাস। এ সময় ভ্যাপসা গরম পড়াটাই স্বাভাবিক। অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, দেশের উত্তরে রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট অঞ্চলে প্রতিদিনই কমবেশি বৃষ্টি হচ্ছে। আবার দক্ষিণে খুলনা, বরিশালে তাপপ্রবাহ বয়ে চলছে। কিন্তু গরম পড়ছে সারা দেশেই। এই সময় বৃষ্টি হলে গরম কিছুটা কমবে। আবার বৃষ্টি বন্ধ থাকলে গরম বাড়বে। ২২-২৩ মে পর্যন্ত ভ্যাপসা গরম ভাব থাকতে পারে।





