আসছে করের ফাঁদ
প্রকাশিত হয়েছে : ২০ মে ২০২৬, ৮:৪৫:১৫ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : দেশের অর্থনীতি যখন উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের স্থবিরতা, বিনিয়োগ সংকট ও রাজস্ব ঘাটতির চাপে টালমাটাল—ঠিক তখনই আসন্ন জাতীয় বাজেটকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে নতুন উদ্বেগ| বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনও স্বস্তির পর্যায়ে নামেনি, আয় বাড়েনি, নতুন চাকরি কমেছে, ব্যবসায় মন্দাভাব চলছে—এমন বাস্তবতায় নতুন কর বা বাড়তি করের আলোচনা মানুষের মধ্যে শঙ্কা তৈরি করেছে|
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারের রাজস্ব আদায়ের চাপ ক্রমেই বাড়ছে| কিন্তু সেই চাপের বড় অংশ গিয়ে পড়ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর| অপরদিকে ধনী ও প্রভাবশালী শ্রেণির কর ফাঁকি, সম্পদ গোপন, অর্থপাচার কিংবা কর বকেয়ার মতো বড় অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা খুব সীমিত| ফলে প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশের করব্যবস্থা কি ধীরে ধীরে ˆবষম্য বাড়ানোর একটি কাঠামোয় পরিণত হচ্ছে?
বাজেট-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আসন্ন বাজেটে সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্য ও সেবায় নতুন কর আরোপ কিংবা বিদ্যমান কর বৃদ্ধির প্রস্তাব থাকতে পারে| এর মধ্যে রয়েছে মোটরসাইকেল, ইন্টারনেট সেবা, কম্পিউটার যন্ত্রাংশ, স্থানীয় এলসি কমিশন, কৃষিপণ্য আমদানি, ভোগ্যপণ্যের কাঁচামাল, এমনকি ক্ষুদ্র ব্যবসা ও কুটিরশিল্পও|
অর্থনীতিবিদদের মতে, এসব করের চূড়ান্ত চাপ শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে ভোক্তার ওপর| কারণ ব্যবসায়ীরা বাড়তি করের বোঝা পণ্যের দামে সমš^য় করেন| ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়ে| বর্তমানে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে| চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস, শাকসবজি—সব কিছুর দাম বেড়েছে| একইসঙ্গে বাসা ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পরিবহন ব্যয়ও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে| এমন পরিস্থিতিতে নতুন কর আরোপ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে|
অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার এখন আগের মতো সঞ্চয় করতে পারছে না| কেউ কেউ সন্তানদের কোচিং বন্ধ করছেন, চিকিৎসা পিছিয়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ কম দামে বাসা খুঁজছেন| অর্থনীতিবিদদের মতে, বাস্তব আয় কমে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের ভোগক্ষমতা কমছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে|
বাংলাদেশের করব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে অর্থনীতিবিদরা দেখছেন—অতিরিক্ত পরোক্ষ করনির্ভরতা| দেশে রাজ¯^ আদায়ের বড় অংশ আসে ভ্যাট, উৎসে কর ও আমদানি শুল্ক থেকে| এসব কর ধনী-গরিব সবার জন্য প্রায় একই হারে প্রযোজ্য| ফলে একজন দিনমজুর, রিকশাচালক বা নিম্ন আয়ের মানুষ বাজার থেকে যে সাবান, তেল বা মোবাইল ডাটা কিনছেন—সেই পণ্যে একই হারে ভ্যাট দিচ্ছেন একজন ধনী ব্যবসায়ীও| এতে করব্যবস্থার ন্যায্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে|
করব্যবস্থার আরেকটি বড় দুর্বলতা হলো— প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারা| এনবিআরের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অভিজাত এলাকার বহু বাড়ির মালিক প্রকৃত ভাড়া আয় গোপন করলেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা খুব কম নেওয়া হয়| কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়ির মালিকদের বড় অংশ প্রকৃত সম্পদ বিবরণী দেন না| আবার বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর বিপুল কর বকেয়া বছরের পর বছর ঝুলে থাকলেও আদায়ে তেমন অগ্রগতি দেখা যায়





