শুরুতেই ভুল সময় দেখাচ্ছে সিসিক’র ঘড়ি!
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ মে ২০২৬, ১:০০:০৮ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : সিলেট নগরের বন্দরবাজার এলাকার হকার পয়েন্টের টাইম টাওয়ারে নতুন ঘড়ি বসানো হলেও এবার দেখা দিয়েছে নতুন সমস্যা। স্থাপনের পর থেকেই ঘড়িটি সঠিক সময় দেখাতে পারছে না। কখনো ৪৫ মিনিট, কখনো ১৫ মিনিট, কখনো ১০ মিনিট পিছিয়ে সময় প্রদর্শন করায় নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভের পাশাপাশি হাস্যরসেরও সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ এখন মজা করে বলে, ‘টাইম টাওয়ার নিজের টাইমে চলে।’
সরেজমিনে দেখা যায়, গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা হলেও টাইম টাওয়ারের ঘড়িতে সময় দেখাচ্ছিল ৩টা ১৫ মিনিট। আবার গতকাল বুধবার বিকেল ৪টা ১৭ মিনিটে ঘড়িতে দেখা যায় ৩টা ২৪ মিনিট। স্থানীয়দের দাবি, নতুন ঘড়ি বসানোর পরদিন থেকেই এমন ভুল সময় প্রদর্শন করছে।
নিম্নমানের ঘড়ি, যন্ত্রাংশ ব্যবহার ও ত্রুটিপূর্ণ স্থাপনার কারণেই ঘড়িটি ঘন ঘন বিকল হয়ে পড়ছে। কেউ কেউ বলছেন, “টাইম টাওয়ার এখন সময়ের চেয়ে বেশি বিভ্রান্তিই ছড়াচ্ছে।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে চলছে নানা ধরনের হাসি-ঠাট্টা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মখন মিয়া বলেন, “আগে ঘড়ি ছিল না, এখন ঘড়ি আছে কিন্তু সময় ঠিক নাই। এতে মানুষের উপকারের চেয়ে বিভ্রান্তিই বাড়ছে। মনে হচ্ছে তাড়াহুড়ো করে নিম্নমানের ঘড়ি লাগানো হয়েছে।”
হকার পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে পত্রিকা বিক্রি করা মিলন মিয়া বলেন, “এই ঘড়ি দুইদিন ঠিক থাকে না। নতুন লাগানোর পরও সময় পিছিয়ে যায়। মানুষ এখন মজা করে বলে, টাইম টাওয়ার নিজের টাইমে চলে।”
এ বিষয়ে জানতে সিলেট সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আলী আকবরের মুঠোফোনে কল দিলে তা ব্যস্ত পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল দৈনিক জালালাবাদে ‘টাইম টাওয়ারে ‘ঘড়ি’ নেই!’ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে দীর্ঘদিন ধরে বিকল অবস্থায় থাকা টাওয়ারের ঘড়িগুলোর বিষয়টি তুলে ধরা হলে সিলেট সিটি করপোরেশন নড়েচড়ে বসে। পরে চলতি মাসের প্রথম শুরু দিকে নতুন করে বাংলাদেশের সময় নির্দেশক ঘড়ি স্থাপন করা হয়।
এর আগে টাওয়ারটির তিনটি ঘড়ির মধ্যে যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবের সময় নির্দেশক দুটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল ছিল। বাংলাদেশের সময় নির্দেশক ঘড়িটিও প্রায় সময় নষ্ট হয়ে যেত। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহারের কারণেই এ অবস্থা তৈরি হয়েছে।
২০১৪ সালে নির্মিত এই টাইম টাওয়ারটি সিলেট নগরের সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে তৈরি করা হয়। আলী আমজদের ঐতিহাসিক ঘড়ির আদলে নির্মিত ২৯ ফুট উচ্চতার এ টাওয়ারে বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবের সময় প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বহু বছর ধরেই এটি অবহেলার প্রতীক হয়ে আছে বলে মনে করছেন নগরবাসী।
স্থানীয়রা বলছেন, শুধু ঘড়ি বসালেই হবে না, এটি যেন সঠিকভাবে পরিচালিত ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় সেদিকেও নজর দিতে হবে। অন্যথায় নগরের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটি উপহাসের বিষয়ে পরিণত হবে।





