মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি ওষুধশিল্পের সম্ভাবনার নতুন দ্বার
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ মে ২০২৬, ৮:৪৬:৪৪ অপরাহ্ন

কুয়ালালামপুর প্রতিনিধি : মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যালস ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদর্শনী ‘এসইএকেয়ার ২০২৬’-এ প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ| বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুরের সক্রিয় উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় এই অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ায় দেশের ওষুধশিল্পের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা|
কুয়ালালামপুর কনভেনশন সেন্টারে ২০ থেকে ২২ মে পর্যন্ত আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মালয়েশিয়ার ডেপুটি মিনিস্টার অব হেলথ দাতো হাজা হানিফা হাজার ˆতয়ব| এ সময় উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরীসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও শিল্পখাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা|
এবারের প্রদর্শনীতে বিশ্বের ৯টি দেশের ১০৫টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে| বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অংশ নিয়েছে চারটি প্রতিষ্ঠান| বাংলাদেশ হাইকমিশনের বুথে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড এবং হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের বিভিন্ন ওষুধ ও স্বাস্থ্যপণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে| এছাড়া এরেবা ক্যাপসুলস লিমিটেড পৃথক বুথে তাদের পণ্য ও সংশ্লিষ্ট তথ্য উপস্থাপন করছে|
প্রদর্শনী চলাকালে মালয়েশিয়ার ডেপুটি মিনিস্টার অব হেলথকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের বুথে স্বাগত জানান হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী| এ সময় তিনি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের অগ্রগতি, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উৎপাদন সক্ষমতা এবং ˆবশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অবস্থান সম্পর্কে তুলে ধরেন| পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের ওষুধপণ্যের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে দেশটির সরকারের সহযোগিতাও কামনা করেন|
বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের অগ্রগতির প্রশংসা করে মালয়েশিয়ার ডেপুটি মিনিস্টার অব হেলথ বলেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের কোম্পানিগুলোকে মালয়েশিয়ার বাজারে আরও শক্ত অবস্থান ˆতরি করতে সহায়তা করবে| একই সঙ্গে তিনি এ আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনকে ধন্যবাদ জানান|
পরবর্তীতে হাইকমিশনার এরেবা ক্যাপসুলস লিমিটেডের বুথ পরিদর্শন করেন এবং উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন| তিনি বলেন, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি ও নতুন বাজার সম্প্রসারণে পণ্যের বহুমুখীকরণের কোনো বিকল্প নেই| এ লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ হাইকমিশন নিজস্ব উদ্যোগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শিল্প প্রদর্শনীতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করছে|
হাইকমিশনার আরও বলেন, এই ফার্মাসিউটিক্যালস প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর নতুন বাজারে প্রবেশাধিকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে| তিনি অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান|
মেলার প্রথম দিনেই মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ওষুধশিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও অংশীজনদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষক এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা বাংলাদেশের বুথসমূহ পরিদর্শন করেন|
সংশ্লিষ্টদের আশা, এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ মালয়েশিয়াসহ সমগ্র আসিয়ান অঞ্চলে বাংলাদেশে উৎপাদিত আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ওষুধপণ্যের পরিচিতি বৃদ্ধি করবে এবং রপ্তানির নতুন বাজার সম্প্রসারণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে|





