সিলেট হামে একদিনে সর্বোচ্চ ৫ শিশুর মৃত্যু
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ মে ২০২৬, ৯:৪৩:০৯ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটে হাম পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটছে। হাম উপসর্গে সিলেটে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় সিলেট বিভাগে হাম উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এরমধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২, শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে ২ ও সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় ১ জনের মৃত্যু হয়।
এনিয়ে সিলেট বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে। এরমধ্যে ৪ জনের হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকী ৪৩ শিশু হাম উপসর্গে মারা যান।
শুক্রবার (২২ মে) এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো: মাহবুবুল আলম।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘন্টায় ল্যাব পরীক্ষায় সিলেট বিভাগে নতুন কারো হাম নিশ্চিত না হলেও এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরো ৭৪ শিশু। এদিকে বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ২৮৩ জন শিশু।
২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ মে পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ১৫৮ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে হবিগঞ্জ ১৬ (২ জন রুবেলা), মৌলভীবাজারের ১৬, সুনামগঞ্জের ৮৪ ও সিলেটের ৪২ জন রয়েছেন।
গত ২৪ ঘন্টায় সিলেট বিভাগে মারা যাওয়া শিশুশিদের মধ্যে- সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ৫ মাস বয়সী শিশু রাইসা হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার ও একই হাসপাতালে মারা যাওয়া ৬ বছর বয়সী আলী আফসান সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার বাসিন্দা, সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে মারা যাওয়া ১০ মাস বয়সী মুসলিমা সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ও একই হাসপাতালে মারা যাওয়া ১ বছর ২ মাস বয়সী রাশেদ আহমদ সিলেট সদর উপজেলার বাসিন্দা এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে মারা যাওয়া ৪ বছর ২ মাস বয়সী শিশু শামিমা সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ৭৪ জনের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৩২, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৭, পার্কভিউ হাসপাতালে ১, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১১, দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১০ ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন শিশু ভর্তি হয়েছেন।
এদিকে বর্তমানে বিভাগে চিকিৎসাধীন ২৮৩ জন সন্দেহজনক রোগীদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৮০, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৯, উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতাল ২, লায়ন্স শিশু হাসপাতালে ৭, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮, আল হারামাইন হাসপাতালে ২, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ৩, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫, দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫৫, ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১, জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১, দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৯, বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৪ জন শিশু ভর্তি রয়েছেন।
এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোঃ মাহবুবুল আলম জানান, একদিনে ৫ মৃত্যু অনাকাঙ্খিত। যেসকল শিশু মারা গেছেন তারা সকলেই অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। শিশুদের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক সর্বোচ্চ সতর্কভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। টিকা ক্যাম্পেইন ২০ মে শেষ হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে আগামী দুয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নয়ন হবেন।





