জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে আসছে চোরাই গরু!
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ মে ২০২৬, ৭:০৬:১৬ অপরাহ্ন
এখলাছুর রহমান, জকিগঞ্জ : পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জকিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারত থেকে চোরাই পথে বিপুল পরিমাণ গরু দেশে প্রবেশের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে বাল্লাহ ও আটগ্রাম সীমান্ত এলাকা বর্তমানে চোরাকারবারিদের অন্যতম সক্রিয় রুট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদকে কেন্দ্র করে কোরবানির পশুর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট ব্যবহার করে রাতের আঁধারে গরু দেশে প্রবেশ করাচ্ছে। পরে এসব গরু দেশের বিভিন্ন পশুর হাট ও বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। সীমান্তসংলগ্ন এলাকার অনেক বাসিন্দা জানান, গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত একাধিক দলে ভাগ হয়ে চোরাকারবারিরা গরু নিয়ে চলাচল করে থাকে। অনেক সময় গ্রামীণ সড়ক, ফসলি জমির পথ ও দুর্গম সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করায় তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। বাল্লাহ ও আটগ্রাম সীমান্ত এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, ঈদের আগে প্রতি বছরই চোরাই গরুর প্রবেশ বাড়ে। তবে চলতি বছর তা আগের তুলনায় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তাদের ধারণা। তারা জানান, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হলে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
স্থানীয় বৈধ পশু ব্যবসায়ীদের অনেকেই মনে করছেন, চোরাই পথে গরু প্রবেশের কারণে বাজারে অস্বাভাবিক প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে। এতে দেশীয় খামারি ও বৈধ ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এছাড়া সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এ বিষয়ে জকিগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। চোরাচালান প্রতিরোধে পুলিশ, বিজিবি ও সংশ্লিষ্ট বাহিনী কাজ করছে। কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনক কোনো চলাচল বা চোরাচালান সংক্রান্ত তথ্য পেলে স্থানীয় জনগণকে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। জনগণের সহযোগিতা পেলে চোরাচালান প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, সচেতন মহল মনে করছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। তাদের মতে, সীমান্তপথে চোরাচালান বন্ধ করা না গেলে বৈধ ব্যবসা, স্থানীয় অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
জকিগঞ্জ থানার এসি আব্দুর রাজ্জাক এ প্রসঙ্গে বলেন, ভারতীয় গরু সীমান্ত দিয়ে যেন প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য পুলিশ এবং বিজিবির কঠোর নজরদারি রয়েছে।





