কুশিয়ারা থেকে ইজারা নিয়ে বালু উত্তোলন, ক্ষোভে ফুঁসছে নদীপারের মানুষ
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ৬:০৭:০২ অপরাহ্ন

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি : বিয়ানীবাজারের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারা নদী থেকে সরকারি ইজারা নিয়ে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন নদীপারের মানুষ। নদীভাঙনে বসতভিটা, জমি ও স্থাপনা হারানোর আশঙ্কায় তারা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন। একই সঙ্গে বালু উত্তোলনে সরাসরি বাধাও দিচ্ছেন স্থানীয়রা।
গত ১ অক্টোবর বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের দক্ষিণভাগ চরে শেওলা-দীঘলবাগ এলাকার মানুষের বাধার মুখে পড়েন ইজারাদার। এ সময় দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে বালু উত্তোলন ঠেকাতে স্থানীয়দের নৌকা নিয়ে নদীতে টহল দিতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণভাগ চরটি বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা নিয়েছেন জুবের আহমদ। তবে ইজারা নেওয়ার পর থেকেই বালু উত্তোলনে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ছেন তিনি। শেওলা-দীঘলবাগ এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণে নদীভাঙন আরও বাড়ছে এবং নদীপারের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানালেও কার্যকর সমাধান হয়নি বলে দাবি তাদের।
ঘটনার পর বিকেলে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসেন। তবে উভয় পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় কোনো সমাধান হয়নি। প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।
শেওলা-দীঘলবাগের বাসিন্দা মিজু বলেন, নদীগর্ভে জমি, বাড়িঘর, রাস্তা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তলিয়ে যাচ্ছে। ইজারাদাররা ড্রেজার দিয়ে ইজারার নির্ধারিত এলাকার বাইরে গিয়ে বালু উত্তোলন করছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে।
তিনি বলেন, বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ইতোমধ্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে লিখিত দাবি জানানো হয়েছে এবং মানববন্ধন করা হয়েছে। প্রয়োজনে রাত জেগে পাহারা দিয়েও অন্যায়ভাবে বালু উত্তোলন ঠেকানো হবে বলে জানান তিনি।
প্রশাসন জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়ার পরও সেখানে বালু উত্তোলন হচ্ছে না-এমন অভিযোগ করে মিজু বলেন, প্রশাসনের চিহ্নিত জায়গায় ইজারাদাররা বালু উত্তোলন করছেন না। তবে প্রশাসন বালু উত্তোলনের নির্দেশনা দিয়েছেÑএমন তথ্যও তারা জানেন না। দুই পক্ষকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে ইজারাদারদের কেউ উপস্থিত ছিলেন না বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে ইজারাদার জুবের আহমদ বলেন, আইন মেনে বৈধভাবে ইজারা নেওয়ার পরও তারা বালু উত্তোলন করতে পারছেন না। বারবার বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রশাসন বালু উত্তোলনের জায়গা চিহ্নিত করে দেওয়ার পর সেখান থেকে বালু উত্তোলন করতে গেলে কয়েকজন যুবক ড্রেজার মেশিনে হামলার জন্য এগিয়ে আসেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। জুবের আহমদ বলেন, অনেক টাকা দিয়ে বৈধভাবে ইজারা নেওয়ার পরও বালু উত্তোলন করতে না পারায় তারা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, স্থানীয়দের দাবি যৌক্তিক। নদীভাঙনের কারণে অনেক মানুষ নিঃস্ব হয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ এলাকায় বালুমহাল ইজারা না দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ইজারা নেওয়া ব্যক্তিদের নদীর ৪০ ফুটের মধ্যে বালু উত্তোলনের জন্য নির্ধারিত জায়গা চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে নির্দেশনা অমান্য করায় অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।






