ঘরে পানি-খাবার মজুতের পরামর্শ যুক্তরাজ্যের
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৩৩:৫১ অপরাহ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সাইবার হামলা কিংবা শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্রের নাশকতামূলক তৎপরতায় জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে যেন অন্তত তিন দিন নিজেদের প্রয়োজন মেটানো যায়, সে জন্য নাগরিকদের ঘরে পানি ও খাবার মজুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।
নতুন ‘বি রেডি’ প্রচারাভিযানের আওতায় প্রত্যেককে অন্তত ৯ লিটার পানীয় জল, তিন দিনের খাবার এবং জরুরি প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও সাইবার হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় নাগরিকদের আগাম প্রস্তুত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে অন্তত ৭২ ঘণ্টা স্বনির্ভর থাকার সক্ষমতা গড়ে তুলতে এ প্রচারাভিযান শুরু করেছে ব্রিটিশ সরকার। নির্দেশনায় পানি ও খাবারের পাশাপাশি কম্বল, নগদ অর্থ, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, ব্যাটারিচালিত টর্চ এবং হাত দিয়ে ঘোরানো যায় এমন এফএম রেডিও রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রত্যেকের জন্য প্রতিদিন পান করার উপযোগী তিন লিটার পানি সংরক্ষণ করতে হবে। রান্না ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য আরও পানির প্রয়োজন হতে পারে।
ব্রিটেনের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড্যান জারভিস বলেন, যাঁরা এ পরামর্শ অনুসরণ করতে পারবেন, তাঁদের তা করা উচিত। তাঁর মতে, দৈনন্দিন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য এগুলো সহজ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোরও অংশ এটি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, রাশিয়া কিংবা অন্য শত্রুভাবাপন্ন শক্তির মদতে পরিচালিত সন্ত্রাসবাদী তৎপরতার ঝুঁকিও ব্রিটেনকে বিবেচনায় নিতে হবে। এসব তৎপরতার লক্ষ্য হতে পারে জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের হুমকি কাল্পনিক নয়; বরং ব্রিটেনের নিরাপত্তার জন্য বাস্তব উদ্বেগের বিষয়।
ঝড় ও সাইবার হামলার আশঙ্কা:
শীতকালীন ঝড়ের মৌসুম শুরুর আগে এ প্রচারাভিযান চালু করেছে সরকার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একের পর এক শক্তিশালী ঝড়ে ব্রিটেনের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। গত জানুয়ারিতে ঝড় গোরেটির আঘাতে মিডল্যান্ডস, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও ওয়েলসে কয়েক দশ হাজার বাড়িঘর বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে।
এ ছাড়া বৈশ্বিক আবহাওয়ার পরিবর্তন, সম্ভাব্য সুপার এল নিনোর প্রভাব এবং খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কাও রয়েছে। প্রযুক্তিগত দুর্বলতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষায় নিরাপত্তাগত দুর্বলতা শনাক্ত হওয়ার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ব্রিটিশ সরকারের ৩২টি ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছিল। দেশটির জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র সম্ভাব্য ঝুঁকিতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৫০ হাজার সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে।
পুরোনো প্রস্তুতি কর্মসূচির পুনরাবৃত্তি:
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটেনে এ ধরনের জনসচেতনতামূলক প্রচারাভিযান তুলনামূলক বিরল। এর আগে ১৯৮০ সালে পারমাণবিক যুদ্ধের পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকার প্রস্তুতি নিয়ে ‘প্রোটেক্ট অ্যান্ড সারভাইভ’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল। সে সময় নাগরিকদের বাড়িতে সুরক্ষিত আশ্রয়স্থল তৈরি এবং ১৪ দিনের খাবার মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
নতুন উদ্যোগে অবশ্য প্রস্তুতির সময়সীমা ৭২ ঘণ্টা। সরকারের প্রত্যাশা, নাগরিকেরা আগাম প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রস্তুত রাখলে বড় ধরনের দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক চাপ সামাল দেওয়া সহজ হবে।




