সৌদি আরবে কর্মসংস্থানে ধস
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৩৫:৩২ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : আট মাস আগে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ বাংলাদেশের জ্বালানি সংগ্রহে মারাত্মক ব্যাহত করেছিল। এবার ইয়েমেনের হুথি ও সৌদি আরবের সংঘাত ব্যাহত করছে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানিকে। ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্স প্রবাহে ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান এই সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বড় দুর্বলতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে, সৌদি আরবের শ্রমবাজারের ওপর অতিনির্ভরতা। বর্তমানে দেশটিতে নতুন কর্মী নিয়োগ ব্যাপক হারে কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৫ লাখ ৯০ হাজার ১৮৮ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৬৪ হাজার ৭৩৫ জন। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এ বছর কর্মী পাঠানো কমেছে ৩১.৮ শতাংশ।
বৈদেশিক কর্মসংস্থানের এই নিম্নমুখী প্রবণতার প্রধান কারণ বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের সবচেয়ে বড় গন্তব্য সৌদি আরব। আলোচ্য সময়ে মোট ৩ লাখ ১৫ হাজার ৯৩৫ জন বাংলাদেশি সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছেন। আগের বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৭৭ হাজার ১০ জন। অর্থাৎ দেশটিতে কর্মী যাওয়া কমেছে ৪৫.২ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান সব মিলিয়ে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৫৪৭ জন কমেছে। এর মধ্যে কেবল সৌদি আরবেই কমেছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৫ জন, যা মোট ঘাটতির প্রায় ৯৫ শতাংশ।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার বলেন, যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রবাসীরা তাদের সঞ্চয় দেশে পাঠিয়ে দিতে পারেন, যা সাময়িকভাবে রেমিট্যান্স বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু এই সংঘাত যদি অমীমাংসিত অবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে প্রথম কয়েক মাস পর প্রবাসী আয়ের প্রবাহ কমে যেতে পারে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও এই পরিস্থিতির ব্যাপক ঝুঁকির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে ৩০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি সৌদি আরবে বসবাস ও কাজ করছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, যেখানে ৩০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কাজ করেন, সেখানে একটি প্রভাব পড়া অনিবার্য। তবে দীর্ঘমেয়াদি চাপ কমাতে সরকার বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজার চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।






