বাড়ছে ছোলার দাম, কৃত্রিম সংকটের শঙ্কা
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৩৭:৩৪ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও দেশের বাজারে হঠাৎ বেড়ে গেছে ছোলার দাম। ফলে রমজানকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা পণ্যটির কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন বলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাধারণত রমজানে ছোলার চাহিদা অনেকটাই বেড়ে যায়। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার জুলাই ও আগস্টে দেশে বেশি পরিমাণে ছোলা আমদানি হয়েছে। তা সত্ত্বেও গত দুই মাসে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে ছোলার দাম কেজিতে ১৭ থেকে ২১ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, অস্ট্রেলিয়ায় ছোলার উৎপাদন কমায় আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং দর বেড়েছে। এ কারণে দেশের বাজারেও দাম বাড়ছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরেও সরবরাহ সংকটের কথা বলে মূল্যবৃদ্ধিকে রমজানের আগে অগ্রিম দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা হিসেবে দেখছেন ভোক্তারা। ভোক্তা অধিকার কর্মীরা বলছেন, বাজারে পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা কারসাজির সুযোগ পেয়ে রোজার আগেই ধাপে ধাপে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
দেশের প্রধান আমদানি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে ছোলার দাম প্রতি মণ (৩৭.৩২ কেজি) ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চট্টগ্রাম উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছোলা আমদানি হয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৫৫ মেট্রিক টন। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার মেট্রিক টন।
২০২৬ সালের জুলাই ও আগস্টে দেশে ছোলা আমদানি হয়েছে ১৭ হাজার ১৭৭ টন। ২০২৫ সালের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৮১ টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এ দুই মাসে আমদানি বেড়েছে ১৫ হাজার ৭৯৬ টন। ২০২৬ সালে রমজান শুরু হয়েছিল ১৯ ফেব্রুয়ারি। ওই রমজানকে সামনে রেখে ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসে দেশে ছোলা আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৯২ টন। এর মধ্যে শুধু ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আমদানি হয়েছে ৭৯ হাজার ৭৭১ মেট্রিক টন।
ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি মাসে ছোলার চাহিদা গড়ে ১০-১২ হাজার টন। তবে রমজান মাসে এই চাহিদা ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টনে গিয়ে দাঁড়াই। এই হিসাবে, দেশে ছোলার বার্ষিক চাহিদা ২ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টন।
খাতুনগঞ্জের ছোলা ব্যবসায়ী ও ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিতোষ দে বলেন, গত দুই মাসে অস্ট্রেলিয়া থেকে ছোলা আমদানির বুকিং দর ক্রমাগত বেড়েছে। একপর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার ছোলার বুকিং দর টনপ্রতি ৮৫০ ডলারে উঠেছিল। বর্তমানে তা কিছুটা কমে ৮২০ থেকে ৮৩০ ডলারের মধ্যে রয়েছে। আগে টনপ্রতি ৬৫০ থেকে ৬৮০ ডলারে ছোলা বুকিং দেওয়া যেত। তিনি আরও বলেন, কম দামের আগের চালানগুলো ছিল আগের বছরের। বর্তমানে বাজারে মূলত ওই পুরোনো ছোলা রয়েছে। নতুন মৌসুমের ছোলা বাজারে আসতে শুরু করলে দাম কমে আসতে পারে।
দাম বাড়ানোর পেছনে কৃত্রিম সংকট বা কোনো সিন্ডিকেটের ভূমিকা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বাজারের মজুত, আমদানিকারকদের বিক্রির তথ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অভ বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন। তিনি বলেন, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। মূলত বাজার তদারকির অভাবেই এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়।






