সরবরাহ বাড়ায় কমেছে সবজির দাম, চড়া মুরগির বাজার
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩০:০৬ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার: সরবরাহ বাড়ায় সপ্তাহের ব্যবধানে সিলেট নগরের বাজারগুলোতে কমেছে শীতকালীন সবজির দাম। কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যে। স্থিতিশীল রয়েছে গ্রীষ্মকালীন সবজির বাজারও। অন্যদিকে, ইলিশের সরবরাহ ও বিক্রি শুরু হওয়ায় অন্যান্য মাছের দামেও কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। তবে গত সপ্তাহের মতো চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে মুরগি।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নগরের লালবাজার ও রিকাবীবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে শীতকালীন প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। গত সপ্তাহে এর দাম ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। নতুন আলু ৭০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকা, জলপাই ৪০ থেকে ৫০ টাকা,
মুলা ৪০ টাকা, লাউ ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বড় ফুলকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং বাঁধাকপি আকারভেদে ২০ থেকে ৩০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।
সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন লালবাজারের সবজি বিক্রেতা রমজান আলী। তিনি বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কমেছে। বিশেষ করে শীতকালীন সবজির সরবরাহ ব্যাপক হারে বেড়েছে। আগামী সপ্তাহে সরবরাহ আরও বাড়লে দাম আরও কমতে পারে।
বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে পটল, ঢ্যাঁড়স ও চিচিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং গাজর ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া পেঁপের দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা কমেছে। আলুর দাম কমেছে ৫ টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়। পেঁয়াজের দাম রয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকার মধ্যে।
বাজারগুলোতে প্রতি কেজি কচুর লতি ৮০ টাকা, কচুরমুখি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রতি হালি লেবু ২০ থেকে ৪০ টাকা, দেশি ধনেপাতা ২৫০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি হালি কাঁচকলা ৪০ টাকা, চালকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস এবং ক্যাপসিকাম ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির দাম কমায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। রিকাবীবাজারে বাজার করতে আসা ইকবাল হোসেন বলেন, শসা ও টমেটো ছাড়া মোটামুটি সব ধরনের সবজি ৫০ টাকার মধ্যে কেনা যাচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় দাম কমায় পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সবজি কিনতে এখন কিছুটা সুবিধা হচ্ছে।
আরেক ক্রেতা সুলেমান বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় এখন তা কিছুটা কমে এসেছে। বিশেষ করে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় বাজারে কেনাকাটা করতে স্বস্তি লাগছে। তবে সব পণ্যের দাম আরও সহনীয় পর্যায়ে এলে সাধারণ মানুষের জন্য ভালো হতো।
তবে সবজির দাম কমলেও মুরগির বাজারে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। বাজারে প্রতি কেজি সোনালি কক মুরগি ৩৩০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ২৯০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৩০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজির পাশাপাশি শাকের দামও রয়েছে মোটামুটি স্থিতিশীল। প্রতি আঁটি লালশাক ১৫ টাকা, লাউশাক ৫০ টাকা, দুই আঁটি কলমিশাক ২০ টাকা, পুঁইশাক ৪০ টাকা, দুই আঁটি পালংশাক ৫০ টাকা এবং দুই আঁটি ডাঁটাশাক ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে মাছের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের মাছের সরবরাহ বাড়ায় কয়েকটির দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। বর্তমানে ইলিশের পাশাপাশি রুই, শিং, মাগুর, পাঙ্গাশ, চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং ৫০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং দেশি শিং ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রতি কেজি রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, চাষের পাঙ্গাশ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং বড় কাতল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রতি কেজি পোয়া মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৪০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৪০ টাকা, কৈ ২২০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১ হাজার ৪০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাঁচকি ৫০০ টাকা এবং পাঁচমিশালি মাছ ২৪০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে মাছের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাংসের বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, বাজারে প্রতি ডজন লাল ডিম ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা, হাঁসের ডিম ১৮০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের প্রতি হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিমের প্রতি হালি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পরিবহন খরচে বাড়ছে সবজির দাম
বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়লেও উৎপাদক পর্যায় থেকে ভোক্তা পর্যন্ত আসতে একাধিক হাতবদলের কারণে দাম খুব বেশি কমছে না বলে অভিযোগ বিক্রেতাদের। তাঁদের দাবি, পাইকারি বাজারে ফরিয়াদের দৌরাত্ম্য এবং সবজি পরিবহনের পথে চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত খরচ কমানো গেলে ক্রেতারা আরও কম দামে সবজি কিনতে পারতেন।
এক বিক্রেতা বলেন, কৃষকের কাছ থেকে সবজি কেনার পর পরিবহন, শ্রমিকের মজুরি ও বিভিন্ন খরচ যোগ হয়। এর মধ্যে ফরিয়াদের দৌরাত্ম্য এবং পথে পথে চাঁদাবাজির কারণে খরচ বেড়ে যায়। এসব নিয়ন্ত্রণ করা গেলে বাজারে সবজির দাম আরও কম রাখা সম্ভব হতো। এতে কৃষক ও ক্রেতা—উভয়েই উপকৃত হতেন।






