ভেনেজুয়েলা থেকে ২শ কোটি ডলারের তেল নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:৩৫:৩৭ অপরাহ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তেল রপ্তানি নিয়ে একটি বড় সমঝোতা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার এ কথা জানান। এই চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলা থেকে সর্বোচ্চ দুই বিলিয়ন ডলারের অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে। এতে একদিকে যেমন চীনের দিকে যাওয়া তেলের সরবরাহ কমবে, অন্যদিকে ভেনেজুয়েলা আরও বড় আকারে তেল উৎপাদন কমানোর চাপ থেকে আপাতত রেহাই পাবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এই চুক্তি প্রমাণ করে যে ভেনেজুয়েলার সরকার যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে তেল খাত খুলে দিচ্ছে। ট্রাম্প আগে জানিয়েছিলেন, ভেনেজুয়েলার তেল খাতে যুক্তরাষ্ট্র ও বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে পূর্ণ প্রবেশাধিকার দিতে হবে, না হলে সামরিক চাপ বাড়তে পারে। তিনি চান অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিক।
ভেনেজুয়েলার কাছে বিপুল পরিমাণ তেল ট্যাংকার ও সংরক্ষণাগারে আটকে আছে। গত বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে যুক্তরাষ্ট্র তেল রপ্তানিতে অবরোধ আরোপ করায় এই তেল পাঠানো যাচ্ছিল না। এই অবরোধের মধ্যেই গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে। ভেনেজুয়েলার শীর্ষ কর্মকর্তারা একে অপহরণ বলে দাবি করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির তেল সম্পদ দখলের চেষ্টা করছে।
ট্রাম্প জানান, ভেনেজুয়েলা ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেবে। এই তেল বাজারদরে বিক্রি হবে। বিক্রির অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের তত্ত্বাবধানে রাখা হবে, যাতে তা ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কল্যাণে ব্যবহার হয়। এই চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটকে। তেল সরাসরি জাহাজ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে পাঠানো হবে।
এই তেল চীনে যাওয়ার কথা থাকলেও কিছু চালান ঘুরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হতে পারে। গত এক দশকে, বিশেষ করে ২০২০ সালে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে চীনই ছিল ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে বড় ক্রেতা।
চুক্তি ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের দাম দেড় শতাংশের বেশি কমে গেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে শেভরন, যা রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএর যৌথ অংশীদার। শেভরন প্রতিদিন এক লাখ থেকে দেড় লাখ ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাচ্ছে।
ভেনেজুয়েলা তাদের মেরেই গ্রেডের তেল ব্রেন্টের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি প্রায় বাইশ ডলার কম দামে বিক্রি করছে। এতে পুরো চুক্তির মূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় এক দশমিক নয় বিলিয়ন ডলার। তবে নিষেধাজ্ঞার কারণে পিডিভিএসএর ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকায় এই অর্থে ভেনেজুয়েলায় সরাসরি প্রবেশাধিকার থাকবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
এই সপ্তাহে দুই দেশের কর্মকর্তারা তেল বিক্রির পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা করেছেন। এর মধ্যে নিলামের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের দরপত্র দেওয়ার সুযোগ এবং পিডিভিএসএর অংশীদারদের জন্য বিশেষ লাইসেন্স দেওয়ার বিষয় রয়েছে। অতীতে এসব লাইসেন্সের আওতায় শেভরন, ভারতের রিলায়েন্স, চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, ইতালির এনি ও স্পেনের রেপসোল ভেনেজুয়েলার তেল পরিশোধন বা পুনরায় বিক্রি করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডাগ বারগাম বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় অঞ্চলে বেশি পরিমাণে এলে কর্মসংস্থান, জ্বালানির দাম ও ভেনেজুয়েলার অর্থনীতির জন্য তা ভালো খবর হবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও অংশীদারত্বে ভেনেজুয়েলা তাদের অর্থনীতি পুনর্গঠনের সুযোগ পাচ্ছে।





