ইইউতে তৈরি পোশাকের বাজার হারাচ্ছে বাংলাদেশ
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:২১:০৭ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের প্রধান রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৪৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ আসে ইইউ থেকে। অথচ চলতি অর্থবছরে এই গুরুত্বপূর্ণ বাজারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ু২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাইুডিসেম্বর) ইইউর বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ কম। এই নেতিবাচক প্রবণতা খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি করেছে। এই সময়ে নিটওয়্যার পণ্যের রপ্তানি ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ কমে ৫ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যেখানে আগের বছর একই সময়ে আয় ছিল ৬ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে, ওভেন পণ্যের রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার, যা ১ দশমিক ৮৭ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। আগের অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ওভেন পণ্য থেকে আয় হয়েছিল ৩ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার। ইইউ বাজারে এ ধরনের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি নিয়ে রপ্তানিকারকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ দেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই আসে এ অঞ্চল থেকে। তাদের মতে, রপ্তানি ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে দেশের অর্থনীতিতে গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
রপ্তানিকারকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) নীতির কারণে চীন, ভারত, ভিয়েতনামসহ বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলো ইইউ বাজারে আরও বেশি অংশ দখলের জন্য ঝুঁকে পড়েছে। ফলে তারা ইইউতে রপ্তানি বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতির চাপে চীন ও ভারত দ্রুত ইইউ বাজারে বেশি শেয়ার দখলের চেষ্টা করছে। ফলে আমরা ওই বাজারে অবস্থান হারাচ্ছি এবং আমাদের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।- বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতির চাপে চীন ও ভারত দ্রুত ইইউ বাজারে বেশি শেয়ার দখলের চেষ্টা করছে। ফলে আমরা ওই বাজারে অবস্থান হারাচ্ছি এবং আমাদের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি এবং মজুরি বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় যখন আমরা চাপে আছি, তখন আমাদের প্রতিযোগী দেশগুলো বাড়তি প্রণোদনা দিয়ে নিজেদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে আগের মতো নীতিগত সহায়তা ও নগদ প্রণোদনা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংকটকাল কাটিয়ে উঠতে এসব সহায়তা এখন অত্যন্ত জরুরি।





