১০ দলীয় জোট জিতলে উত্তরবঙ্গ হবে ‘কৃষি শিল্পের রাজধানী : জামায়াত আমীর
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:২৯:২০ অপরাহ্ন

জালালাবাদ রিপোর্ট : আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০-দলীয় জোট বিজয়ী হলে উত্তরবঙ্গকে অবহেলার হাত থেকে রক্ষা করে ‘কৃষি-ভিত্তিক শিল্পের রাজধানী’ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড়ের চিনিকল মাঠে আয়োজিত একটি নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। এ জনসভার মাধ্যমে ডা. শফিকুর উত্তরবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন।বক্তৃতায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকেই উত্তরবঙ্গকে পরিকল্পিতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। এই অঞ্চল দেশকে খাদ্য ও পুষ্টি সরবরাহ করে, অথচ এখানকার মানুষের সাথে সব সময় সৎ মায়ের মতো আচরণ করা হয়েছে। আমরা এই বৈষম্যের অবসান ঘটাতে চাই।
উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক দৈন্যদশা ঘোচাতে বন্ধ হয়ে যাওয়া সব চিনিকল পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন জামায়াত আমীর।তিনি বলেন, ‘আমরা উত্তরবঙ্গ থেকে আর কোনো বেকারের মুখ দেখতে চাই না। বন্ধ চিনিকলগুলো খুলে দিয়ে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। প্রতিটি যুবক-যুবতীকে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে তৈরি করা হবে’বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দেশ থেকে পাচার হওয়া ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশের ব্যাংক থেকে উদ্ধার করে আনা হবে। আর কাউকে লুটপাট ও চুরি করার সুযোগ দেওয়া হবে না।’
তিনি জানান, ১০-দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার একটিও মেডিকেল কলেজবিহীন থাকবে না। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পঞ্চগড়েও একটি উন্নত মানের মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে ।
জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান ১০-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষ থেকে পঞ্চগড়ের দুটি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।
তিনি পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী এনসিপি নেতা সারজিস আলমের হাতে ‘শাপলাকলি’ এবং পঞ্চগড়-২ আসনের প্রার্থী মো. শফিউল আলমের হাতে নির্বাচনি প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ তুলে দেন।সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আপনাদের কাজ থামবে না। বিজয় ছিনিয়ে না আনা পর্যন্ত মাঠেই থাকতে হবে। আমরা আপনাদের শাসক নয়, সেবক হতে চাই। জনসভায় স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ ১০-দলীয় জোটের বিপুলসংখ্যক কর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, একইদিন বিকেলে দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে ১০-দলীয় ঐক্যের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন ডা: শফিকুর রহমান। এ সভায় জামায়াতের আমীর বলেন, দিনাজপুরকে
গণ্য করা হয় বাংলাদেশের শস্যভান্ডার হিসেবে। সারা বাংলাদেশের খাদ্যের তিন ভাগের এক ভাগ জোগান দেয় বৃহত্তর দিনাজপুর। এই জেলা নিজের উর্বর মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করে বাংলাদেশকে যুগের পর যুগ দিয়ে চললেন। বাংলাদেশ দিনাজপুরকে কী দিল? বৃহত্তর জেলা হিসেবে অনেক জায়গায় সিটি করপোরেশন হয়েছে। আপনারা কি সিটি করপোরেশন পেয়েছেন? পান নাই কেন? আমরা এই বৈষম্যকে খতম করব ইনশা আল্লাহ। আপনাদের ভালোবাসায়-সমর্থনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যদি দেশসেবার সুযোগ পায়, সরকার গঠনের সুযোগ পায়, আমরা আপনাদের অত্যন্ত আস্থার সঙ্গে আশ্বস্ত করছি, দিনাজপুর শহর ইনশা আল্লাহ সিটি করপোরেশনে রূপান্তর করা হবে। সিটি করপোরেশন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকগুলো উন্নয়ন অটোমেটিক্যালি দিনাজপুর শহর পেয়ে যাবে।
এদিকে, একইদিন ঠাকুরগাঁও শহরের জেলা স্কুল বড় মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় ভাষণ দেন ডা: শফিকুর রহমান। ভাষণে তিনি সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে মানসম্মত সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।





