ঈদের ছুটিতে চা বাগানের হাতছানি
প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ মার্চ ২০২৬, ৭:৫৫:২৯ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : ঈদের টানা ছুটিতে পর্যটকদের ঢল নামার অপেক্ষায় শ্রীমঙ্গলসহ মৌলভীবাজার জেলার সবুজে ঘেরা চা-বাগানগুলো। পর্যটকদের বরণ করে নিতে শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ ও কুলাউড়াসহ আশপাশের এলাকার রিসোর্ট, কটেজ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঈদের ছুটিতে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে শ্রীমঙ্গলের চা-বাগানঘেরা এলাকাগুলো এবারও পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে। শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সদস্যসচিব শামসুল হক বলেন, শ্রীমঙ্গলের শহরতলির বাইরের রিসোর্ট ও কটেজগুলোতে, বিশেষ করে রাধানগরের রিসোর্টগুলো ইতিমধ্যে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ বুকিং হয়ে গেছে। ১৯ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত এই ছুটির ভরা মৌসুমে শতভাগ বুকিংয়ের আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। তিনি আরও বলেন, দুই ঈদের ছুটিই আমাদের পর্যটনের প্রধান মৌসুম। ছুটি শুরুর সঙ্গে সঙ্গে কোনো কক্ষ আর খালি থাকবে না বলেই আমরা আশা করছি।
তবে শহরের ভেতরের হোটেলগুলোতে এখনো বুকিং কিছুটা কম। সেখানে এখানো ৪০-৫০ শতাংশ কক্ষ ফাঁকা রয়েছে। শহরের কোলাহল ছেড়ে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে আগ্রহীরা যেসব জায়গায় যান তার মধ্যে মৌলভীবাজার জেলার চা বাগানগুলো এগিয়ে থাকে। এর মধ্যে শ্রীমঙ্গলেই রয়েছে বিলাসবহুল বহু রিসোর্ট, ইকো-কটেজ ও গেস্টহাউসসহ শতাধিক থাকার জায়গা। উৎসবের এই ভিড় সামলাতে রেস্তোরাঁ ও ক্যাফেগুলোও তাদের মেনু সাজিয়েছে নতুন করে। সেখানে দেশি-বিদেশি খাবারের পাশাপাশি স্থানীয় আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী খাবারেরও ব্যবস্থা রয়েছে।
কমলগঞ্জের টিলাগাঁও ইকো ভিলেজের ব্যবস্থাপক মো. সোহেল আহমেদ জানান, ২০ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত তাদের রিসোর্টের প্রায় ৯৫ শতাংশ কক্ষ ইতিমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। শ্রীমঙ্গলের একটি স্থানীয় ইকো ক্যাফের মালিক তাপস দাস জানান, পর্যটকেরা যেন খাবারের মাধ্যমে এই অঞ্চলের সংস্কৃতির স্বাদ নিতে পারেন, সে জন্য ঐতিহ্যবাহী ও আদিবাসী খাবারের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বালিশিরা রিসোর্টের পরিচালক জাহানারা আক্তার জানান, ২১ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত তাদের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। তিনি শতভাগ বুকিংয়ের বিষয়ে আশাবাদী। গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফের মহাব্যবস্থাপক আরমান খান জানান, তাদের এখানেও বুকিং প্রায় শেষ। বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা কমলেও দেশি পর্যটকদের দিয়েই তা পুষিয়ে যাচ্ছে।
উঁচু-নিচু পাহাড়, চা-বাগান আর হাওরে ঘেরা মৌলভীবাজার দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। এখানকার প্রধান আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে চা-বাগান, হাইল হাওর, বাইক্কা বিল, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, হামহাম জলপ্রপাত ও মাধবপুর লেক।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান ভিড়ের প্রভাব এখনই টের পাওয়া যাচ্ছে। শ্রীমঙ্গলের বাসিন্দা আবদুল করিম বলেন, পর্যটক আসায় স্থানীয় ব্যবসাবাণিজ্য চাঙা হচ্ছে। এর সুফল পাচ্ছেন পরিবহনশ্রমিক, দোকানদার, ট্যুর গাইড ও রেস্তোরাঁগুলো। তিনি বলেন, আমরা আশা করি দর্শনার্থীরা দায়িত্বশীল আচরণ করবেন। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকবেন, স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করবেন।
ঈদের ভিড় সামলাতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ জোনের ট্যুরিস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, সব বড় পর্যটনকেন্দ্রে আমরা টহল জোরদার করেছি। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালিত হবে।





