জ্বালানি সংকটে মালয়েশিয়ায় চালু হচ্ছে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ৬:৪০:৩৬ অপরাহ্ন
মালয়েশিয়া প্রতিনিধি: বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় মালয়েশিয়া সরকার সরকারি দপ্তরগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে অফিসগুলোতে এয়ারকন্ডিশনারের তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামানো যাবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী সেরি ফাদিল্লাহ ইউসুফ।
ফাদিল্লাহ, যিনি জ্বালানি রূপান্তর ও পানি রূপান্তর মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন, বৃহস্পতিবার এক বিৃতিতে তিনি বলেন, সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বদ্ধপরিকর। সরকারি কর্মচারীদের স্থানীয় আবহাওয়ার উপযোগী পোশাক যেমন বাটিক, কর্পোরেট শার্ট বা বাজু মেলায়ু পরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এতে অতিরিক্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগগুলো সরকারের দায়িত্বশীল জ্বালানি ব্যবহারের প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে আমরা একাধিক শক্তি সাশ্রয়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। এরই ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন যে আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে সরকারি খাত ও সরকার-সংযুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ (বাড়ি থেকে কাজ) নীতি চালু করা হবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো জ্বালানি ব্যবহার কমানো, বিশেষ করে জ্বালানি তেলের খরচ হ্রাস করা এবং দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে টেকসই রাখা।
বিশ্লেষকদের মতে, কর্মীদের অফিসে যাতায়াত কমানো গেলে যানবাহনের জ্বালানি ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, যা সামগ্রিক জ্বালানি চাহিদা হ্রাসে সহায়ক হবে। পাশাপাশি অফিস ভবনগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহারও কমবে, কারণ কমসংখ্যক কর্মী উপস্থিত থাকলে বিদ্যুৎ খরচও কম হবে।
ফাদিল্লাহ ইউসুফ বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে অস্থিরতা জ্বালানি বাজারকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। এই প্রণালীটি বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহনের একটি প্রধান পথ হওয়ায় এখানে কোনো বিঘ্ন ঘটলে তার প্রভাব সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে পড়ে।
সবমিলিয়ে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়া সরকারের এই পদক্ষেপগুলো একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




