১৬ ঘন্টার দুর্ভোগ শেষে পেট্রোল পাম্প ধর্মঘট প্রত্যাহার
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৪১:১৯ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : কোন আগাম ঘোষণা ছাড়াই রাতে সিলেট বিভাগের সকল গ্যাস ও পেট্রোল পাম্প হঠাৎ বন্ধ ঘোষণা করায় সীমাহিন দুর্ভোগে পড়ে চালক ও যাত্রী সাধারণ। টানা ১৬ ঘণ্টা দুর্ভোগের পর অবশেষে খুলেছে সকল সিএনজি ও পেট্রোল পাম্প। বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় সিলেটের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবন্দ ও পাম্প মালিকদের সাথে বৈঠক শেষে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী।
এই ঘোষণার পরপরই খুলতে শুরু করে পাম্পগুলো। টানা ১৬ ঘন্টা বন্ধ থাকার পর খুলে দেয়ায় পাম্পগুলোতে দেখা দেয় যানবাহনের দীর্ঘ সারি। বিপুলসংখ্যক যানবাহনে জ্বালানী সরবরাহে হিমশিম খেতে দেখা গেছে পাম্প কর্তৃপক্ষকে।
এর আগে নগরীর কয়েকটি পাম্পে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে জরিমানা আদায়ের প্রতিবাদসহ বিভিন্ন হয়রানির অভিযোগ এনে বুধবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ সিলেট বিভাগের সব পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে ধর্মঘট আহ্বান করা হয়। এতে বন্ধ হয়ে যায় বিভাগের সকল পাম্প। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপির নির্দেশে এবং সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ চৌধুরী মধ্যস্থতায় ও পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসে ভোর রাত ৩ টার দিকে পেট্রোল পাম্প মালিক সংগঠনের মুখপাত্র রিয়াসাদ আদনান ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দিলেও তা মানেননি পাম্প মালিকরা। ফলে বৃহস্পতিবার বেলা ২ টা পর্যন্ত বন্ধই ছিল পাম্প। এতে দুর্ভোগে পড়েন চালক ও যাত্রীরা।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সিলেটের প্রায় সবকটি পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। ভোরে থেকে লাইনে দাড়িয়ে তেল ও গ্যাস না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক চালক ও যাত্রী। আচমকা ডাকা এ ধর্মঘটের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন তারা। অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জ্বালানি সংগ্রহ করতে না পেরে ফিরে যেতে বাধ্য হন। কেউ কেউ যানবাহন পাম্পেই রেখে চলে যান।
এদিকে এমন পরিস্থিতিতে সমস্যা সমাধানে দুপুর ১২টার দিকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জ্বালানি তেল ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেটের পুলিশ সুপার (এসপি) ড. যাবের সাদেক, মহানগর বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিমসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও পাম্প মালিক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রাতে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা শুনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই অনেকেই যানবাহন নিয়ে পাম্পে যান। বেলা ২টা পর্যন্ত সিলেট নগরীর সকল গ্যাস ও পেট্রোল পাম্পে গিয়ে বিক্রি বন্ধ থাকতে দেখা যায়। এসময় পাম্পগুলোতে যানবাহনের সারি ছিল চোখে পড়ার মতো।
এরআগে বুধবার নগরীর একাধিক পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা আদায়কে অযৌক্তিক দাবি করে রাত ১০ টার দিকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট আহ্বান করেন পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন মালিকরা।
তবে প্রশাসনের হয়রানি বন্ধের আশ্বাসে ভোররাত ৩ টার দিকে ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির মুখপাত্র ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম আদনান। কিন্তু এমন আশ্বাস দিলেও বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত পাম্পগুলোতে তেল, গ্যাস বিক্রয় বন্ধ থাকায় জনমনে বিরাজ করে ক্ষোভ।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী জানান, রাতে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ব্যাপারে প্রশাসনের আশ্বাসে পাম্প মালিকগণ আশ্বস্ত হতে পারেন নি। তাই দুপুর পর্যন্ত বিভাগের সকল পাম্প বন্ধ ছিল। বেলা ২টায় প্রশাসনের সাথে বৈঠক শেষে পাম্প খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে পাম্পগুলোতে জ্বালানি বিক্রি শুরু হয়ে গেছে।
ফিলিং স্টেশন মালিকদের অভিযোগ, বুধবার বিকেলে আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে সিলেটের এক পাম্প মালিকের দু’টি পাম্পের একটিতে ট্যাগ কর্মকর্তা, র্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্তৃক হিসাব না রাখার ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অপরটিতে এক পাম্পের তেল আরেক পাম্পে নেওয়ার দায়ে জরিমানা করা হয়। এসময় মালিককে বিনা কারনে ৬ ঘন্টা পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়। এছাড়াও ট্যাগ অফিসার বসানো, বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে অনবরত হিসাব নেওয়া, পাম্পে পুলিশ নিয়োগ, ছয়টি পাম্পে জরিমানা আদায়ের অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে কোন আগাম ঘোষণা ছাড়াই বিভাগের সকল গ্যাস ও পেট্রোল পাম্প বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়েছেন চালক ও যাত্রী সাধারণ। তারা জানান, এভাবে হঠাৎ পাম্প বন্ধ করে দেয়া সম্পূর্ণ বেআইনী। পাম্প বন্ধ থাকায় অ্যাম্বুলেন্সও জ্বালানি পায়নি। এতে অসুস্থ ও মুমূর্ষ রোগীর জীবন হুমকীর মুখে পড়তে দেখা গেছে। এ ব্যাপারে সরকার ও প্রশাসনকে কঠোর ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবী চালক ও যাত্রী সাধারণের।




