মহানগর শিবিরের বিক্ষোভ মিছিল: জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রয়োজনে আরেকটি বিপ্লব হবে
প্রকাশিত হয়েছে : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৫৩:২০ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় তথ্য ও মানবাধিকার সম্পাদক তানজির হোছাইন জুয়েল বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দীর্ঘ ৯ মাস, প্রায় ৩০ টি রাজনৈতিক দলের আলাপ-আলোচনার মধ্যে দিয়ে জুলাই সনদ তৈরি হয়েছিল। আজকে যারা টালবাহানা করেছে, তারা বলেছিল এই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য একটি গণভোটের ব্যবস্থা করেন। আমরা বলেছিলাম গণভোট নির্বাচনের আগে করার জন্য। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল নির্বাচন ও গণভোট একইদিনে করার। ড. ইউনূস তাদের কথা রাখতে গিয়ে একদিনে গণভোট ও নির্বাচন দেন। নির্বাচনে বাংলাদেশের ৬৯ ভাগ মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে, বাংলাদেশের মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু আমরা আজকে দেখতে পাচ্ছি জনগণের ম্যান্ডেট থাকার পরও সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আজকে টালবাহানা শুরু হয়েছে। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে বাংলাদেশে আরেকটি জুলাই বিপ্লব হবে। প্রয়োজনে রাজপথ আবার উত্তপ্ত হবে, বাবা আবার ছেলেহারা হবে, তবুও জুলাই সনদ আদায় করা হবে ইনশাআল্লাহ।
রোববার বিকেলে নগরীর চৌহাট্টায় গণভোটের আলোকে জনরায় বাস্তবায়নে সরকারের গড়িমসির প্রতিবাদে আয়োজিত মিছিল পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে নগরীর কোর্ট পয়েন্ট থেকে একটি মিছিল শুরু হয়ে জিন্দাবাজার পয়েন্ট অতিক্রম করে চৌহাট্টায় সমাবেশের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়।
তিনি আরও বলেন, সরকার গঠনের পর প্রথম কাজ ছিল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা। কিন্তু তারা আজ সরকার গঠন করলেও জুলাইকে বাদ দিতে চাচ্ছে। আমরা বলতে চাই জুলাই শহীদদের সম্মান করে যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করেন, তাহলে বাংলাদেশের জনগণ আপনাদের প্রত্যেকটি স্বপ্নকে দুঃস্বপ্নে রূপান্তর করবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার মধ্য দিয়ে যারা জুলাইয়ে জীবন দিয়েছেন, তাদেরকে সম্মানিত করার। যদি প্রয়োজন হয় এবং এভাবে যদি গাদ্দারি করতে থাকেন, বাংলাদেশের মানুষ হাসিনাকে যেভাবে বিদায় করেছে, একইভাবে আপনাদেরকে এদেশ থেকে বিতাড়িত করবে।
ছাত্রশিবিরের সিলেট মহানগর সেক্রেটারি আবু তাহের মু. ফাহিমের সঞ্চালনায় ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর সভাপতি শহীদুল ইসলাম সাজুর সভাপতিত্বে উক্ত বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সভাপতির বক্তব্যে শহীদুল ইসলাম সাজু বলেন, গণভোটের বিরুদ্ধে থেকে বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় যদিও গণভোটে হ্যাঁ দেওয়ার জন্য বলেছিল, কিন্তু আমরা তখনই বুঝতে পেরেছিলাম এরা বেঈমানী করবে। নির্বাচন শেষে আজ সরকার গঠনের পর এদেশের মানুষের সাথে, জনগণের সাথে তারা মুনাফেকি করেছে। তারা জনগণের রায়কে মেনে নিতে চায় না। তাদের একেকজন মন্ত্রী একেক কথা বলে। আইনমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীকে উপেক্ষা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনের ব্যাখ্যা দেয়। আইনের ব্যাখ্যা দিতে গেলে আপনারা পদে পদে ধরা খাবেন। আপনারা পদে পদে সংবিধানের দোহাই দিচ্ছেন, সংবিধান মেনে জুলাই হয়নি, সংবিধান মেনে দুই হাজার মানুষ শহিদ হয়নি, সংবিধান মেনে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয় নাই। জুলাই আন্দোলনে ছাত্রজনতা যখন গুলি খেয়ে মরছিল, তখন আপনারা কোথায় ছিলেন তা আমাদের জানা আছে। আপনারা তখন বিভিন্ন গেস্ট হাউজে বসে ভিডিওগুলো দেখছিলেন আর বলছিলেন এই আন্দোলনের সাথে আপনাদের সম্পৃক্ততা নেই। তখন আপনাদের সংবিধান কোথায় ছিল? জনগণের রায়কে মেনে নিয়ে আপনারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। অন্যথায় ফ্যাসিস্ট হাসিনার পরিণতি আপনাদেরও হবে।
উক্ত বিক্ষোভ মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবির শাবিপ্রবির সভাপতি মাসুদ রানা তুহিন, সিলেট জেলা পশ্চিমের সভাপতি আবু জুবায়ের ও মৌলভীবাজার শহর সভাপতি কাজী দাইয়ান আহমদ। মিছিলে ছাত্রশিবির সিলেট মহানগরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি





