গ্রাহকের ঘাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার বোঝা
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮:১১:৩২ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : দেশে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম বাড়ায় অতিরিক্ত খরচের বোঝা চেপেছে গ্রাহকদের ঘাড়ে| বর্ধিত দামে এ চার ধরনের জ্বালানি কিনতে আগামী এক বছরে গ্রাহকদের পকেট থেকে বাড়তি প্রায় ১১ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা বের হয়ে যেতে পারে| জ্বালানি তেলের চাহিদা, সরবরাহ এবং মূল্য বিশ্লেষণে এ তথ্য বের হয়ে এসেছে|
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার প্রভাবে দেশে এ চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার| গত রবিবার থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে| গত শনিবার রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে|
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে দেশে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের ব্যবহার ছিল যথাক্রমে ৪৩ লাখ ৫০ হাজার ৭৫ মেট্রিক টন, ৪ লাখ ১৫ হাজার ৬৫৩ মেট্রিক টন, ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪৭৫ মেট্রিক টন এবং ৬৭ হাজার ৪৭৭ মেট্রিক টন| বিপিসির আওতাধীন তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর কয়েক জন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এবং চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে তেলের চাহিদা ও সরবরাহ বৃদ্ধির হার বিবেচনায় নিলে আগামী এক বছরে জ্বালানি তেলের ব্যবহার প্রায় ১০ শতাংশ বাড়তে পারে| সে হিসাবে ৩৬৫ দিনে মোট ব্যবহার দাঁড়ায় প্রায় ৫৬৯ কোটি লিটার ডিজেল, ৬১ কোটি ৭৮ লাখ লিটার অকটেন, ৬৮ কোটি ৭৪ লাখ লিটার পেট্রোল এবং ৯ কোটি ২৭ লাখ লিটার কেরোসিন| বিপিসির জ্বালানি তেলভেদে গড় ঘনত্ব অনুযায়ী টনকে লিটারে রূপান্তর করে এই হিসাব করা হয়েছে|
বর্ধিত দামে এ পরিমাণ তেল কিনতে ক্রেতাদের বছরে মোট খরচ করতে হবে দাঁড়াবে প্রায় ৮৪ হাজার ৬৪৭ কোটি টাকা, যা আগের দামের তুলনায় অতিরিক্ত প্রায় ১১ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা বেশি| গত রবিবারের আগের দামে এ পরিমাণ তেল কিনতে হলে মোট খরচ হতো প্রায় ৭৩ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা|
ডিজেলেই সবচেয়ে বড় ব্যয় ও চাপ : চার ধরনের জ্বালানির মধ্যে ডিজেলের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি এবং অর্থনৈতিক চাপের বড় অংশও এ তেলকে কেন্দ্র করেই| বছরে প্রায় ৫৬৯ কোটি লিটার ডিজেল ব্যবহারের বিপরীতে নতুন দামে ভোক্তাদের ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৬৫ হাজার ৫১০ কোটি টাকা| আগের দামে এই ব্যয় ছিল প্রায় ৫৬ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা| অর্থাত& এককভাবে ডিজেলেই অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ছে প্রায় ৮ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা|
ব্যক্তিগত পরিবহনে বাড়তি খরচ : অকটেন ও পেট্রোল মূলত ব্যক্তিগত যানবাহন, প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল এবং কিছু উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জিনে ব্যবহূত হয়| হিসাব অনুযায়ী, বছরে অকটেন ব্যবহারে ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৮ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা, যা আগের তুলনায় অতিরিক্ত প্রায় ১ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা বেশি| একইভাবে পেট্রোল ব্যবহারে মোট ব্যয় হবে প্রায় ৯ হাজার ২৮১ কোটি টাকা, যা আগের তুলনায় বাড়তি প্রায় ১ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা| এই দুই জ্বালানির দাম বাড়লে সরাসরি মধ্যবিত্ত ও শহুরে জনগোষ্ঠীর ˆদনন্দিন যাতায়াত ব্যয় বাড়ে| রাইড শেয়ারিং, মোটরসাইকেলভিত্তিক সেবা এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ও মোটরসাইকেলের খরচ বেড়ে যাওয়ায় নগর জীবনে ব্যয়ের চাপ আরো তীব্র হতে পারে| এক্ষেত্রে সীমিত ও নির্ধারিত আয়ের জনগণ বেশি চাপে পড়বে|
কেরোসিনে খরচ বাড়বে প্রান্তিক মানুষের : কেরোসিনের ব্যবহার তুলনামূলক কম হলেও এর সামাজিক গুরুত্ব বেশি বলে মনে করেন খাত সংশ্লিষ্টরা| বছরে প্রায় ৯ কোটি ২৭ লাখ লিটার কেরোসিন ব্যবহারের বিপরীতে নতুন দামে ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১ হাজার ২০৬ কোটি টাকা, যা আগের তুলনায় অতিরিক্ত প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা বেশি| প্রধানত গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে কেরোসিনের ব্যবহার বেশি| প্রান্তিক এলাকায় বিদ্যুত& না থাকলে এর ব্যবহার করেন নিম্ন আয়ের মানুষ| এছাড়া ছোট রান্নার চুলা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ও কেরোসিন ব্যবহূত হয়| অর্থাৎ কেরোসিনের মূল্যবৃদ্ধি দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে| অথবা তাদের নিত্যদিনের অন্য চাহিদার বিপরীতে ব্যয় বন্ধ করে দিতে হতে পারে|




