প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে সই হতে পারে ২ সমঝোতা স্মারক ও ২ ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’
প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ জুন ২০২৬, ৯:৫৩:২৮ অপরাহ্ন

আহমাদুল কবির, কুয়ালালামপুর : মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে আগামী সপ্তাহে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধান হিসেবে এটি তার প্রথম বিদেশ সফর। সফরকালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক এবং দুটি ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ সই হতে পারে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ২১ থেকে ২২ জুন কুয়ালালামপুর সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২১ জুন ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তার। সফরের মূল আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে ২২ জুন, যখন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তিনি।
দুই নেতার বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক ও দুটি ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ স্বাক্ষরিত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, এসব চুক্তি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করবে এবং অর্থনৈতিক ও মানবসম্পদ খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
সরকারের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, নতুন সরকার গঠনের পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর। মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশীদার দেশ। সেখানে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। তাই শ্রমবাজার পুনরায় চালু করাই সফরের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হবে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করা। পাশাপাশি ভিসা জটিলতা, কনস্যুলার সেবার সীমাবদ্ধতা এবং অনথিভুক্ত কর্মীদের সমস্যা নিয়েও আলোচনা হবে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে শ্রমবাজারে নতুন অগ্রগতির ঘোষণা আসতে পারে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে দুই দেশের মধ্যে একাধিক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। শ্রমবাজারের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, হালাল খাদ্য, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, সুনীল অর্থনীতি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
এক কর্মকর্তা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়ার কয়েকটি বৃহৎ শিল্প ও জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। সরকারপ্রধানদের সফর সবসময়ই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এগিয়ে নেয়। একদিনের আনুষ্ঠানিক সফর হলেও এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশের কোনো সরকারপ্রধান মালয়েশিয়া সফর করায় প্রবাসীরা এটিকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।
মালয়েশিয়া বিএনপিও সফরকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে। ১৭ জুন বুধবার বিকেলে কুয়ালালামপুরে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের সভাপতি প্রকৌশলী বাদলুর রহমান খান বাদলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও মালয়েশিয়া বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, সিনিয়র সহ সভাপতি মাহবুব আলম শাহ, মালয়েশিয়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সহ সভাপতি তালহা মাহমুদ, সহ সাধারণ সম্পাদক কাজী সালাহ উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা সালাহ উদ্দিনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।




