মক্কা-মদিনা ছাড়া সৌদির আকাশসীমা অনিরাপদ ঘোষণা হুতির
প্রকাশিত হয়েছে : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৯:০০:০৭ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা মক্কা ও মদিনা ছাড়া সৌদি আরবের বাকি আকাশসীমাকে অনিরাপদ বলে ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে দেশটির তেল স্থাপনাগুলো থেকে কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের দূরে থাকার সতর্কবার্তা দিয়েছে গোষ্ঠীটি। সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ ঘোষণা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন সংবাদ সংস্থা সাবার এক প্রতিবেদনে সামরিক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, মক্কা ও মদিনা ছাড়া সৌদি আরবের আকাশসীমা অনিরাপদ। সতর্কবার্তা উপেক্ষা করলে সংশ্লিষ্টদের কোনো অজুহাত গ্রহণ করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সূত্রটি। তবে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য, সময় কিংবা কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি গোষ্ঠীটি।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর শেয়ারহোল্ডারদেরও শেয়ার বিক্রি করে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে হুতিরা। গোষ্ঠীটির সামরিক সূত্র বলেছে, সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে অনেক দেরি হওয়ার আগেই আরামকোর শেয়ার তুলে নেওয়া উচিত। তবে এই সতর্কবার্তার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা বা হামলার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে সৌদি আরবের নাজরান শহরের একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনো ধরনের প্রক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনায় ছয়জন আহত হওয়ার কথা জানায় দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, হুতিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সৌদি আরবের খামিস মুশাইত শহর লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল বলে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবরের শুরু থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা উত্তেজনা বেড়েছে। হুতিদের সামরিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে বড় পরিসরে অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে জোটটি। এর পাল্টায় সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুতিরা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি আরবের আকাশসীমা ও তেল স্থাপনা নিয়ে হুতিদের এই সতর্কবার্তা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। তবে এটি হুতিদের দেওয়া ঘোষণা; সৌদি আরবের পুরো আকাশসীমা বাস্তবে অনিরাপদ কি না, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ অবস্থায় সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি ও পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।






