গোলাপগঞ্জে আওয়ামীলীগের মিছিলে পুলিশের ধাওয়া, অস্ত্র ও পেট্রোল বোম উদ্ধার, আটক ২
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ আগস্ট ২০২৪, ৬:৩২:১৬ অপরাহ্ন
গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি: গোলাপগঞ্জে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিলে ধাওয়া করে পুলিশ। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, পেট্রোল ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করেছে। অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করা হলেও অন্যান্যরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এসআই আব্দুল হান্নান বাদী হয়ে ১৭ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাতনামা আরো ২০০ জনকে অভিযুক্ত করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে গোলাপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামীরা সবাই গোলাপগঞ্জ থানার বাসিন্দা। তারা হলেন- উত্তর বাঘা গ্রামের মুহিবুর রহমানের পুত্র বাঘা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান, দক্ষিণ বাঘা গ্রামের মৃত তৈয়ব আলীর পুত্র উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক আর্জমন্দ আলী, ছিটা ফুলবাড়ী উত্তর বাজার (১নং ওয়ার্ড) গোলাপগঞ্জ পৌরসভার শামীম আহমদের পুত্র গোলাপগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাব্বি, দাড়িপাতন (শেখানী) গ্রামের জিলুর পুত্র পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানিম আহমদ সানি, উত্তর বাঘা গ্রামের ওয়াতির আলীর পুত্র বাঘা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুহিবুর রহমান, বাঘা-উত্তর গোলাপনগর সোনারটুল গ্রামের মৃত আব্দুল মালিকের পুত্র বাঘা ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মাহমুদ আহমদ, উত্তর বাঘা গ্রামের বাঘা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোঃ শাহজাহানুর রহমান, ফুলবাড়ী গ্রামের মোঃ মাসুক মিয়ার কন্যা ঢাকাদক্ষিণ সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক সানজিদা আক্তার ইমা, ফুলবাড়ী উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের পুত্র গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আজমল হোসেন মনি, গোলাপনগর পশ্চিমগাঁও গ্রামের মৃত রফিক উদ্দিনের পুত্র বাঘা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল আহমদ, ফুলবাড়ী ঘনশ্যাম গ্রামের মৃত আব্দুল হকের পুত্র গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য খালেদ আহমদ হক, উত্তর বাঘা গ্রামের মুহিবুর রহমানের স্ত্রী বাঘা ইউনিয়ন মহিলা লীগের সদস্য নাছিমা বেগম, দড়া ফুলবাড়ী গ্রামের মৃত আরব আলী কটইয়ের পুত্র ফুলবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ক্রীড়া ও ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক সুহেল আহমদ হাসুন, আমনিয়া গ্রামের গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিক উদ্দীন, ফুলবাড়ী (দক্ষিণপাড়া) গ্রামের মৃত ছিদ্দিক আলী ঠিকাদারের পুত্র গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আলী আকবর ফখর, নগর গ্রামের মৃত ঠাকুর মিয়ার পুত্র ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফয়েজ আহমদ এবং রণকেলী দিঘীরপাড় গ্রামের মৃত মাসুক আলীর পুত্র গোলাপগঞ্জ পৌর যুবলীগ নেতা কামরান আহমদসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট ২০২৪ দুপুর প্রায় ১টার দিকে গোলাপগঞ্জ থানাধীন বৈটিকর বাজার এলাকায় সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের ওপর আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রসহ জড়ো হয়ে পুরাতন টায়ারে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে সড়কে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে তারা ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে চলাচলরত গাড়ি ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নেতাকর্মীরা সড়কে চলাচলরত যানবাহন ও পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তবে রাব্বি ও ইকবাল আহমদ নামের দুই আসামীকে পুলিশ আটক করতে সক্ষম হয়। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১২টি বাঁশের লাঠি, ৬টি লোহার রড, ১৩টি লোহার পাইপ, ১টি হকিস্টিক, ১ লিটার পেট্রোল ভর্তি প্লাস্টিকের বোতল, ২০টি ইটের টুকরা এবং পোড়া টায়ারের ছাই উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আসামীগণ সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, যানবাহন ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর পরিকল্পনা করেছিল। পুলিশ অত্যন্ত সফলতার সাথে তা প্রতিহত করেছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।






