সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:১০:০৪ অপরাহ্ন
জালালাবাদ রিপোর্ট : বরখাস্ত কৃত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির পরও সম্পদের হিসাব দাখিল না করায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় তার বিরুদ্ধের দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে একটি মামলা দায়ের হয়েছে।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রাফি মোহাম্মদ নাজমুস সাদাত (মানিলন্ডারিং-১) বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং-৪ (সিলেট মহানগর)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ২০২৩ সালের নভেম্বর মাস থেকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে প্রায় ৮ মাস দায়িত্ব পালন করেন। এর পূর্বে তিনি ২০১১-২০২১ সাল পর্যন্ত আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি-এর পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অনুসন্ধানকালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, আগারগাঁও হতে প্রাপ্ত নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণ করে সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর নিজ নামে লন্ডনে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি যেমন- ৪,০০০ বর্গফুটের বাড়ি, ১,৮০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট-এর তথ্য গোপনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। এছাড়াও নির্বাচনী হলফনামায় পূর্বাচলে রাজউক বরাদ্দকৃত ৫ কাঠা জমির তথ্য গোপন করেন।
অনুসন্ধানকালে আরও জানা যায়, ২০২২-২০২৩, ২০২৩-২০২৪ এবং ২০২৪-২০২৫ খ্রিস্টাব্দে দাখিলকৃত আয়কর রিটার্ন অনুসারে তার মোট সম্পদ: ৮৪,৪৪,০৯৮/- টাকা; কিন্তু উক্ত টাকা তিনি কিভাবে অর্জন করেন তার কোন সঠিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায় নি। এছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়: ১৩,২৫,০০০/- টাকা এবং মেয়র পদে বেতন ও সম্মানি ভাতা বাবদ ১০,৫৩,০০০/- টাকা প্রাপ্ত হন যা গ্রহণযোগ্য। তবে মোট অগ্রহণযোগ্য নীট সম্পদ ৯৩,৪৪,০৯৮/- টাকা যা অবৈধভাবে অর্জন করেছেন মর্মে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়।
উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে যে, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী তার সম্পদের উৎস, ধরণ, সময় ও মূল্য আয়কর রিটার্নে বা নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করেননি। এছাড়া সম্পদ বিবরণী আদেশ জারির ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ দাখিল না করায় তিনি দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে দুর্নীতি দমন কমিশনের নির্দেশক্রমে তার নামে ইস্যুকৃত সম্পদ বিবরণীর নোটিশ জারি করার জন্য গেলে বাসা তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়, ফলে নিয়মানুযায়ী তার বাসার গেইটে সাক্ষী রেখে সম্পদ বিবরণীর মূল ফরম (ফরম নং : ০০৬৫৫৭) ঝুলিয়ে জারী করা হয়। এসময় উপস্থিত স্থানীয় লোকজন জানান, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বর্তমানে এই ঠিকানায় বসবাস করেন না, লন্ডনেই তার স্থায়ী বসবাস ও ব্যবসা-বাণিজ্য আছে।
মামলার বিষয়ে দুদক সিলেট কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জানান, নির্ধারিত সময়ে সম্পদের তথ্য না দেয়ায় কিংবা সময় বৃদ্ধির আবেদন না করায় কমিশনের অনুমোদনের ভিত্তিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলাটি (নন-সাবমিশন) দায়ের করেছেন। তিনি জানান, বিধি অনুযায়ী তদন্ত ও পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এর বাইরে আর কোন মন্তব্য করতে তিনি রাজী হননি।





