জামায়াত জোটে নয়া মেরুকরণ, ৮ দলের কলেবর বেড়ে ১০
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:১৬:৩০ অপরাহ্ন
আসন সমঝোতা প্রায় সম্পন্ন, শিগগির ঘোষণা : জামায়াত আমীর

জালালাবাদ রিপোর্ট : উত্তাপ ছড়ানো রাজনীতির মাঠে নতুন চমক দেখালো জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন আট দলীয় জোট। এই কলেবর আরো বেড়েছে। এবার জামায়াতসহ আট দলের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছে। এই সমঝোতায় কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিও (এলডিপি) যুক্ত হয়েছে। রোববার বিকেলে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে জামায়াতের আমীর ডা: শফিকুর রহমান এ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আট দল একসঙ্গে ছিল। আর দুটি দল তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। সেগুলো হলো এনসিপি ও কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি।
ঘোষণাকালে উপস্থিত ছিলেন কর্নেল অলী আহমেদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মামুনুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের, জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধানসহ ৮ দলের শীর্ষ নেতারা।
জোটের পরিধি বৃদ্ধির বিষয়ে জামায়াতের আমীর বলেন, জাতীয় জীবনের একটি কঠিন বাকে প্রিয় বাংলাদেশ। সামনে এগিয়ে নিতে ন্যায় ও ইনসাফের ওপর ভিত্তি করে সমাজ গঠনের জন্য ৮টি দলের সাথে আরও দুটি দল যোগ দিয়েছে। একটি এলডিপি ও অন্যটি এনসিপি। একটু আগে এনসিপির সঙ্গে আমাদের বৈঠক শেষ হয়েছে। এনসিপির কেউ এই মুহূর্তে আসতে পারেনি। এনসিপি সংবাদ সম্মেলন করে অফিসিয়ালি ঘোষণা দেবে।
জামায়াত আমীর বলেন, ৩০০ আসনেই নির্বাচনি সমঝোতা নিয়ে দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং প্রায় সব আসনে সমঝোতা চূড়ান্ত। শেষপর্যায়ে যুক্ত হওয়া দুই দলের কারণে কিছু কারিগরি বিষয় রয়ে গেছে, যা মনোনয়ন দাখিলের পর পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জামায়াতের আমীর বলেন, আরও দল তাদের সঙ্গে সমঝোতায় আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে এই মুহূর্তে সেটি সম্ভব হচ্ছে না।সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এখনো সবার জন্য সমতল মাঠ তৈরি হয়নি। সংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। কোনো ধরনের পক্ষপাত, ভয়ভীতি বা লোভ-লালসার কাছে নতি স্বীকার করলে জাতি তা মেনে নেবে না।
তিনি বলেন, বিগত কয়েকটি নির্বাচনে ভোটাধিকার থেকে মানুষ বঞ্চিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো প্রক্রিয়া মেনে নেওয়া হবে না। ভোটাধিকার রক্ষায় এই জোট ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করবে।
গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস,বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এই ছয়টি দল আসন সমঝোতার ভিত্তিতে সব আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার আলোচনা শুরু করে। পরে এতে যোগ দেয় বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি। জামায়াতসহ এই আটটি দল বিভিন্ন দাবিতে অভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে টানা অনেক দিন মাঠে ছিল।
নতুন করে এনসিপি ও এলডিপি নির্বাচনী সমঝোতায় যুক্ত হওয়ায় এখানে দলের সঙ্গে সংখ্যা দাঁড়াল ১০টিতে।





