যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসা স্থগিত, উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় ভিসা প্রত্যাশীরা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৮:৪৫ অপরাহ্ন

জালালাবাদ রিপোর্ট : বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষায় ছিলেন-কবে পরিবারের সঙ্গে এক ছাদের নিচে থাকা যাবে। কিন্তু বাংলাদেশিদের জন্য আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত থাকায় সেই অপেক্ষা আরও দীর্ঘ ও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এতে ভিসা প্রত্যাশীদের মাঝে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা বিরাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অনেক বাংলাদেশি বলছেন, তাদের নানা পরিকল্পনা আপাতত থমকে গেছে। কবে নাগাদ ভিসা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তা নিয়ে কোনো স্পষ্ট সময়সীমা না থাকায় তাদের চাপ ও উৎকণ্ঠা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকার প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও নীতিগত পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
যে কারণে এই সিদ্ধান্ত ও প্রবাসীদের শঙ্কা :
বাংলাদেশসহ যে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা স্থগিত করছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, তার পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, অভিবাসন আইনের ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে যাদের যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে, তাদের অভিবাসন ঠেকানোর উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রধান উপ-মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, স্টেট ডিপার্টমেন্ট তার দীর্ঘদিনের ক্ষমতা ব্যবহার করে এমন সম্ভাব্য অভিবাসীদের অযোগ্য ঘোষণা করবে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সরকারি সহায়তার বোঝা হয়ে দাঁড়াবে এবং মার্কিন জনগণের উদারতার অপব্যবহার করবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বাধীন বিভাগটি তাদের প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়নের সময় ভিসা প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত রাখবে, যাতে এমন বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ রোধ করা যায়, যারা কল্যাণভাতা ও সরকারি সুবিধা গ্রহণ করবে, যোগ করেন পিগট।
মার্কিন সরকারের এই সিদ্ধান্তের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অবৈধ পথগুলোর পাশাপাশি বৈধ পথগুলো আরও বেশি সীমিত হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বেশ কয়েকজন বাংলাদেশির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন এই সিদ্ধান্তে সবারই ‘ফ্যামিলি প্রায়োরিটিজ’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রিন কার্ড হোক বা সিটিজেনশিপ হোক, সবার ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য। ধরা যাক, কারও বাবা-মা, ভাই-বোন অসুস্থ থাকলেও তাদের এখন ভিসা দেবে না। কারণ স্পন্সরশিপে এসে বেশিরভাগ মানুষই সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে।
অর্থাৎ, তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর জনকল্যাণমূলক সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, যা দেশটির অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
তার ভাষ্যমতে, শুরুতে তিনি পেশাগত কাজে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরের বছরই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম, তথা রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন। এটি পেতে তার আরও বছরখানেক লেগে যায়। ১৯৯৫ সাল থেকে তিনি বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পেয়ে যান।
যেসব দেশের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা :
যে ৭৫টি দেশের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তার মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল ও ভুটানও রয়েছে।
আরো রয়েছে-আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামা, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ব্রাজিল, বার্মা, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, কিউবা, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ডোমিনিকা, মিশর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজ প্রজাতন্ত্র, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টিনিগ্রো, মরক্কো, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, উত্তর ম্যাসেডোনিয়া।
কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান ও ইয়েমেন।





