বাজেটে ঘাটতিতে চ্যালেঞ্জের মুখে এডিপি বাস্তবায়ন
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ জুন ২০২৬, ৮:২৫:১২ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : প্রতি বছরই বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বরাদ্দ বাড়তে থাকে| কিন্তু এডিপির এত পরিমাণ বরাদ্দ অবাস্তবায়ন থেকে যাচ্ছে| চলতি অর্থবছরের নয় মাসে এডিপির মাত্র ৩৬ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে| এত পরিমাণ অবাস্তবায়ন থাকার পড়েও প্রতি বছরই এডিবি বেড়ে চলছেই| এর ফলে বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে| এ ঘাটতি মেটাতে সরকারকে দেশি-বিদেশি ঋণ ও অনুদানের ওপর নির্ভর করতে হয়| এছাড়া আগামী অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজ¯^ আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে| তবে এ লক্ষ্য অর্জন নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে রয়েছে সংশয়| সার্বিক দিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে- এই বিশাল এডিপির বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে|
সরকার আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ কোটি টাকার বেশি বিশাল বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রস্তাব করেছে| তবে এত বড় বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন আবারো সামনে এসেছে| এক বছরে এডিপির আকারে ১ লাখ কোটি টাকার বৃদ্ধি| দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এ ধরনের বড় বৃদ্ধি আগে দেখা যায়নি| অন্যদিকে বাস্তবায়নের গতি এখনো ধীর|
চলতি অর্থবছরের সংশোধিত ২ লাখ কোটি টাকার এডিপির মধ্যে প্রথম নয় মাসে বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৩৬ শতাংশ| এ বিশাল উন্নয়ন বাজেটের লক্ষ্য হলো অবকাঠামো উন্নয়ন ত্বরাšি^ত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো|
বাজেট নথি অনুযায়ী, এডিপির বড় অংশ অর্থায়ন করা হবে দেশীয় ও ˆবদেশিক ঋণ এবং অনুদানের মাধ্যমে| দেশীয় উৎস থেকে আসবে ১ লাখ ৪৬ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা| যার মধ্যে নিট ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা| অন্যদিকে ˆবদেশিক উৎস থেকে আসবে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা| যার মধ্যে প্রকল্প ঋণ ও অনুদান হিসাবে ধরা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা|
বাজেটে ঘাটতি আড়াই লাখ কোটি: প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা| যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ| এই ঘাটতির বড় অংশই অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মেটানোর প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী|
বাজেটে ব্যয়ের বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব হলো- বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মোট ৩ লাখ কোটি টাকাসহ মোট উন্নয়ন ব্যয় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি এবং পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে|
প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী বলেন, মোট ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা ˆবদেশিক উৎস থেকে নির্বাহ করা হবে|
অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নির্বাহ করা হবে| চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যা ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা| অর্থাৎ, ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ আগামী অর্থবছরে ৬ হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে|
অর্থনীতিবিদদের প্রশ্ন হলো- এই অর্থ কতোটা কার্যকরভাবে ব্যয় করা যাবে| সাম্প্রতিক তথ্যও আশাব্যঞ্জক নয়| চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে উন্নয়ন ব্যয় হয়েছে ৭৫ হাজার ৬০৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা| যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৮২ হাজার ৮৯৪ কোটি ৮ লাখ টাকা| অর্থাৎ বাস্তবায়নের হার কমার পাশাপাশি প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণও হ্রাস পেয়েছে|
রাজ¯^ ঘাটতির ঝুঁকিতে সরকারের ঋণ বাড়বে : রাজ¯^ ঘাটতিকে দেশের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়| রাজ¯^ আহরণে ঘাটতি অব্যাহত থাকলে আগামী তিন অর্থবছরে সরকারের ঋণের পরিমাণ ১২ লাখ কোটি টাকার বেশি বেড়ে ৩৩.৭৮ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে|
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত মিডিয়াম টার্ম ম্যাক্রোইকোনমিক পলিসি স্টেটমেন্টে বলা হয়েছে, জিডিপির আকার বৃদ্ধির কারণে সরকারি ঋণ জিডিপির ৩৯ শতাংশের মধ্যে সীমিত থাকলেও দেশের নিম্ন কর-জিডিপি অনুপাতের প্রেক্ষাপটে এই ঋণের বোঝা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে|
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান রাজ¯^ ঘাটতির ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৯ সালের মধ্যে উন্নয়ন ব্যয় প্রায় ৯৬ হাজার কোটি টাকা কমে যেতে পারে| একই সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগও প্রায় ৮৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে|
সরকার আগামী অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজ¯^ আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে| তবে এ লক্ষ্য অর্জন নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে রয়েছে সংশয়|




