বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পারছে না শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ জুন ২০২৬, ১১:০১:২৬ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পারছে না মৌলভীবাজারের শেরপুরের শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল। বড় স্বপ্ন নিয়ে ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করা এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৪ বছরেও কাঙ্খিত বিনিয়োগ আসেনি| যদিও শুরুতে ৬টি দেশিয় শিল্প গ্রুপ ৮১৮.১১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ দেখায়। কিন্তু চার বছর পেরিয়ে গেলেও কাঙ্খিত সেই বিনিয়োগ করেনি শিল্প গ্রুপগুলো। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বর্তমানে মাত্র দুটি শিল্প গ্রুপ কারখানা স্থাপন করেছে। সীমিত আকারে সুতা ও গ্লাস উৎপাদন করছে প্রতিষ্ঠান দুটি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শিল্পাঞ্চল ঘিরে কর্মসংস্থানের যে স্বপ্ন তারা দেখেছিলেন, তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। তারা দ্রুত অবকাঠামোগত কাজ শেষ করে কারখানা চালুর দাবি জানান। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলের পূর্ণতা পেতে আরও জোরালো তৎপরতা প্রয়োজন বলেও মনে করে স্থানীয়রা। তবে শিল্প গ্রুপগুলো বলছে, শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলে উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও অভ্যন্তরীণ সড়কের সংস্কার না করায় তারা বিনিয়োগ করছে না।
তথ্য বলছে, ৪৪ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রার নিয়ে তৎকালীন সরকার ২০১৬ সালে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরে শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। ৩৫৩ একর জায়গাজুড়ে শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ওই বছরই। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন শেষে ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে অর্থনৈতিক অঞ্চলটি।
অর্থনৈতিক অঞ্চলটিতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগসহ শিল্প কারখানা স্থাপনের সকল সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে । তবুও অঞ্চলটিতে শিল্প কারখানা স্থাপনে ধীরগতি| শুরুতে পলমল গ্রুপ, গ্রেটওয়াল সিরামিকস গ্রুপ, আব্দুল মোনেম লিমিটেড, ডাবল গ্লেজিং গ্রুপ ও ডিবিএল গ্রুপ ৮১৮.১১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা জানায়। শুধু ডিবিএল গ্রুপই ৬৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে বলে জানায়। কিন্তু এটি শুরু হওয়ার চার বছর হতে চললেও এসব শিল্প গ্রুপ এখানে বিনিয়োগ করেনি। শুধুমাত্র সীমিত পরিসরে কারখানা স্থাপন করেছে ডিবিএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ফ্লেমিংগো। প্রতিষ্ঠানটি এখানে রেডিমেইড গার্মেন্টেসের জন্য সূতা উৎপাদন করছে।এছাড়া ডাবল গ্লেজিং গ্রুপ গ্লাসডোর উৎপাদন করছে। চার বছরে ২ শত মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে বলে জানা গেছে। অথচ শত কোটি টাকা ব্যয়ে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করে সরকার। কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রার সিকিভাগও পূরণ হয়নি।
জানা গেছে, অর্থনৈতিক অঞ্চলে ডিবিএল গ্রুপের ফ্লেমিংগো ফ্যাশনস লিমিটেড ১৬০.৬০ একর জায়গা পেয়েছে। তাদের প্রস্তাবিত বিনিয়োগ ছিল ৬৫০ মিলিয়ন ডলার| তাদের ১০টি প্রতিষ্ঠান এখানে বিনিয়োগ করার কথা। ৫ হাজার ৬৩০ জন মানুষের কর্মসংস্থান হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ডিবিএল গ্রুপ চার বছরে সেখানে মাত্র ১টি প্রতিষ্ঠানের কারখানা স্থাপন করেছে। ফ্লেমিংগো প্রতিষ্ঠানটি এখানে রেডিমেইড গার্মেন্টেসের জন্য সূতা উৎপাদন করছে।
পলমল গ্রুপের আয়েশা ক্লথিং কোম্পানি লিমিটেড জায়গা পেয়েছে ৭ একর। ২ হাজার ১০০ জন মানুষের কর্মসংস্থান হওয়ার কথা রয়েছে। শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দুটি| তবে পলমল গ্রুপ অর্থনৈতিক অঞ্চলটিতে এখনও কোনো বিনিয়োগ করেনি।
গ্রেট ওয়াল সিরামিকস লিমিটেড জমি পেয়েছে ২৫ একর। তাদের প্রস্তাবিত বিনিয়োগ ছিল ৩২.০৫ মিলিয়ন ডলার| কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার কথা রয়েছে ১ হাজার মানুষের। তবে প্লট পেলেও শিল্প গ্রুপটি এখনও কোনো কারখানা স্থাপন করেনি।
ডাবল গ্লেজিং লিমিটেড ৩ একর জমি পেয়েছে। প্রস্তাবিত বিনিয়োগ ছিল ০.২১ মিলিয়ন ডলার। তবে প্রতিষ্ঠানটি কারখানা স্থাপন করে গ্লাস উৎপাদন করছে। আব্দুল মোনেম লিমিটেড শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১৯ একর জমি পেয়েছে। প্রস্তাবিত বিনিয়োগ ছিল ৫০ মিলিয়ন ডলার। দুটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে ২০০ মানুষের কর্মসংস্থান হতো। এ শিল্প গ্রুপটিও প্লট বুঝে পাওয়ার চার বছরেও কারখানা স্থাপন করে উৎপাদনে যেতে পারেনি।
এছাড়া পলমল গ্রুপের আসওয়াদ কম্পোজিট মিলস লিমিটেড জমি পেয়েছে ৭ একর। দুটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে ৩০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা ছিল। এই প্রতিষ্ঠান কারখানা স্থাপন করে উৎপাদনে গেলে ২ হাজার ৬০ জন মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে তারাও এখানো কোনো বিনিয়োগ করেনি। সরজমিনে দেখা যায়, বরাদ্দ পাওয়া অধিকাংশ প্লটই খালি পড়ে আছে। কিছু প্লট বাউন্ডারি করে রেখেছে বরাদ্দ প্রাপ্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান। আর কিছু প্লটে নির্মাণ সামগ্রী পড়ে আছে। বেজার উপপরিচালক দূর্জয় রায় পলাশ জানান, যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, তাদের দ্রুত কাজ শেষ করে উৎপাদনে যেতে বলা হয়েছে। যারা নির্দেশ মানবে না, তাদের প্লট বাতিল করে নতুন বিনিয়োগকারীকে দেওয়া হবে।




