এমপিওভুক্ত হচ্ছে আরো ১৫০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:১৮:১৭ অপরাহ্ন
জালালাবাদ ডেস্ক : টানা আন্দোলন, অনশন ও মৃত্যুর ঘটনার পর অবশেষে নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য স্বস্তির খবর এলো। সরকার নতুন করে দেশের ১ হাজার ৫০০ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে সারাদেশে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ শিক্ষক-কর্মচারী সরকারি বেতন ও ভাতার আওতায় আসবেন।শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই এমপিওভুক্তির এ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে চায় সরকার। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এমপিও খাতে বরাদ্দকৃত ৩০০ কোটি টাকা থেকেই নতুন এসব প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হবে।
জানা গেছে, গত ৭ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালা-২০২৫’ প্রকাশ করেছে। এই নীতিমালার আওতায় নতুন করে এমপিওভুক্ত করা হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে। নতুন নীতিমালায় এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়াকে তদবির ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে বেশ কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী ১৪ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে এমপিওভুক্তির আবেদন গ্রহণ করা হবে। আগ্রহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘ঙহষরহব গচঙ অঢ়ঢ়ষরপধঃরড়হ’ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। এবার পুরো প্রক্রিয়াটি হবে ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে।
এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে, যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী সংখ্যা, শিক্ষক সংখ্যা, পরীক্ষার পাসের হার ও অবকাঠামোগত সক্ষমতাসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে স্কোর প্রদান করবে। সেই স্কোর অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হবে।
আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস), বুয়েটসহ আইটি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হবে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে গঠিত চূড়ান্ত কমিটি অনুমোদন দেবে। পরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি নিয়ে প্রস্তাবটি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো হবে।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা বলেন, ‘যোগ্য বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত এমপিওভুক্ত করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাজেটে যে বরাদ্দ আছে, তা দিয়ে যতগুলো প্রতিষ্ঠান সম্ভব, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এমপিওভুক্ত করা হবে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়, চলতি অর্থবছরে এমপিও খাতে বরাদ্দ ৩০০ কোটি টাকার মধ্যে স্কুল ও কলেজের জন্য ২৫০ কোটি টাকা এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ৫০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সারা দেশে প্রায় ৩ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির যোগ্য হলেও প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০০ প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রেখে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০২১ সালে ২ হাজার ৭০০-এর বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়। তবে পরে নীতিমালার বাইরে রাজনৈতিক বিবেচনায় আরও ৭১টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হওয়ায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর আর নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়নি।
এর আগে প্রায় ১০ বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৯ সালের অক্টোবরে ২ হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ২ হাজার ৬১৫টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির অনুমোদন পায়। সে সময় অযোগ্য ও নীতিমালাবহির্ভূত প্রতিষ্ঠানগুলো বাদ দেওয়া হয়েছিল।
নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের প্রধান সমন্বয়ক প্রিন্সিপাল সেলিম মিয়া বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফলেই সরকার নতুন করে এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা চাই, যত যোগ্য প্রতিষ্ঠান আছে সবাইকে এমপিওভুক্ত করা হোক। নির্বাচনের আগেই এমপিও কোড দেওয়া হলে বেতন কিছুদিন দেরি হলেও আমাদের আপত্তি নেই।’
উল্লেখ্য, গত বছর নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা এমপিওভুক্তির দাবিতে মোট ৮৭ দিন আন্দোলন করেছেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে টানা ৩৭ দিনসহ বিভিন্ন সময়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এমপিওভুক্তির আশায় অনাহার ও অসুস্থতায় এ সময়ে অন্তত ১৯ জন শিক্ষক মৃত্যুবরণ করেন।





