শীতের নতুন দুঃসংবাদ : তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা নামলো ৬ ডিগ্রীতে
প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:২৭:৪৮ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : পাহাড় থেকে সমতল-প্রকৃতির হিমশীতল শাসনে কাঁপছে গোটা দেশ। একদিকে বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের গর্জন, অন্যদিকে উত্তুরে হাওয়ার মরণকামড়-এই দুইয়ের জাঁতাকলে পড়ে জবুথবু জনজীবন। এর মাঝে আবহাওয়া অফিস শোনাল আরও এক হাড়কাঁপানো দুঃসংবাদ।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, শীতের এই দাপট এখনই কমছে না; বরং আগামী ২৪ ঘণ্টা পর রাতের তাপমাত্রা আরও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে বর্তমানে চলমান শৈত্যপ্রবাহের ব্যাপ্তি ও তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের সব জেলায় শুক্রবারও শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। এর পাশাপাশি নরসিংদী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়াতেও বইছে শৈত্যপ্রবাহ।
এ নিয়ে দেশের ২০টি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ অবস্থা আরও দুই দিন চলবে। শুক্রবার সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়, ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে সিলেটে তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। শুক্রবার সিলেটের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
এদিকে, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে মোট ১৬টি জেলা রয়েছে। এর সঙ্গে আরও চার জেলা যুক্ত হয়ে মোট ২০ জেলায় বইছে শৈত্যপ্রবাহ।আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, চলতি মাসের অন্তত মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহ চলতে থাকবে। এ সময় এর বিস্তৃতি কমবেশি হতে পারে। আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আগামী ১০ জানুয়ারির দিকে উত্তর শ্রীলঙ্কা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থান করছে।
পৌষের এই শেষ লগ্নে শীতের এমন আগ্রাসী রূপে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষ। আবহাওয়া অফিস বলছে, এই শৈত্যপ্রবাহের স্থায়িত্ব আরও কয়েক দিন দীর্ঘায়িত হতে পারে, যা পৌষের রাতগুলোকে সাধারণ মানুষের জন্য আরও কঠিন করে তুলবে।





